আজকাল ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক দাপট, একের পর এক নির্বাচনী জয়। সবং বিধানসভা কেন্দ্র একপ্রকার সমার্থক হয়ে উঠেছিল মানস রঞ্জন ভুঁইয়া নামের সঙ্গে।

১৯৮২ সাল থেকে আটবারের বিধায়ক, মন্ত্রীত্বের অভিজ্ঞতা ছিল মানসের। সব মিলিয়ে এই কেন্দ্রকে তাঁর অদম্য দুর্গ বলেই মনে করত রাজনৈতিক মহল। কিন্তু ২০২৬ সালের নির্বাচনে সেই দৃশ্যপট আমূল বদলে গেল।

বহুদিনের পরিচিত মুখ। মানসের একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী অমল পান্ডাই এবার হয়ে উঠলেন পরিবর্তনের প্রতীক। বিজেপির টিকিটে লড়ে অমল ১১,১৩৬ ভোটে পরাজিত করলেন তাঁর প্রাক্তন নেতাকে।

ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই সবংয়ে শুরু হয় রাজনৈতিক পালাবদলের নতুন অধ্যায়। ফল প্রকাশের পর এলাকাজুড়ে উচ্ছ্বাসের আবহ। রবিবার গভীর রাতে বাড়ি ফেরেন নবনির্বাচিত বিধায়ক।

দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ভিড়, হাতে পদ্মফুল, ফুলস্তবক ও রজনীগন্ধার মালা-উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে পরিবেশ। তবে এই আনন্দের মাঝেই সংযমের বার্তা দিতে ভোলেননি অমল পান্ডা।

সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি বলেন, ‘এই জয় সবংয়ের মানুষের। মানস ভুঁইয়ার মতো শক্তিশালী নেতাকে হারানো সহজ নয়। মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। আমি সেই রায়কে প্রণাম জানাই।’

তিনি কৃতজ্ঞতা জানান নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, শুভেন্দু অধিকারী এবং শমীক ভট্টাচার্যের প্রতি। তাঁর বক্তব্য, তাঁদের নেতৃত্ব ও সমর্থনেই এই লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলেন তিনি। মানুষ ভরসা রেখেছেন বলেই জয়লাভ করেছেন বলে জানিয়েছেন মানস।

আগামী দিনের পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠাই তাঁর প্রথম লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই, মানুষ যেন স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করতে পারে।’

পাশাপাশি কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ‘জয়ের আনন্দ উদযাপন করুন, তবে এমনভাবে করুন, যাতে কারও অসুবিধা না হয়।’ সবংয়ের এই ফলাফল শুধুমাত্র একটি নির্বাচনী জয় নয়।

এটি এক দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান এবং নতুন সমীকরণের সূচনা। এখন দেখার, এই পরিবর্তনের হাওয়ায় আগামী দিনে কোন পথে এগোয় সবংয়ের রাজনীতি।