আজকাল ওয়েবডেস্ক: এবারের নির্বাচনে প্রধান ইস্যু ছিল এসআইআর। যেভাবে এই বিষয়টি নিয়ে রাজ্যে শোরগোল পড়েছিল তাতে অনেকেই ভেবেছিলেন যে এখানে ব্যাকফুটে যাবে বিজেপি শিবির। তবে সোমবার রাজ্যের ভাগ্যে ছিল অন্যকিছু। যত বেলা গড়িয়েছে ততই দেখা গিয়েছে রাজ্যবাসী বিজেপির হাতেই পরবর্তী ৫ বছরের দায়িত্ব তুলে দিয়েছে। একের পর এক গণনাকেন্দ্র থেকে বিজেপির উত্থানের খবর সামনে আসতে থাকে। ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়তে থাকে তৃণমূল কংগ্রেস। বিরাট ব্যবধানে নিজের খেলা দেখায় বিজেপি। 


এদিন দিল্লি থেকে প্রধানমন্ত্রী ফের একবার উন্নয়নের বাংলার খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘দেশের বেশিরভাগ রাজ্যেই বিজেপির সরকার চলছে। জনতার সেবা করাই প্রধান কাজ। তাই মানুষ ভরসা করে। ডা. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির আত্মা এবার শান্তি পেল। তিনি রাষ্ট্রকে সবার আগে রেখেছিলেন। তিনি পশ্চিমবাংলার জন্য বিরাট লড়াই করেছিলেন। ৪ মে ২০২৬ সালে বাংলার জনতা বিজেপিকে সুযোগ দিয়েছে। বাংলার ভাগ্যে আজ থেকে নতুন অধ্যায় জুড়ে গেল। বাংলা ভয়মুক্ত হল। বিকাশের পথে যুক্ত হল। বাংলার পরিবর্তন হয়েছে। সেখানকার মানুষরা নিজের মতো করে ভোট দিয়েছে। বাংলার মানুষের ওপর অনেক অত্যাচার হয়েছে। বাংলায় বিজেপি উন্নয়নের জোয়ার এনে দেবে।

 

তিনি আরও বলেন, 'বিজেপি যত আসন জিতেছে তা সংখ্যা নয় এটি হিংসা-ভয়-তুষ্টিকরণের রাজনীতিকে উত্তর দিয়েছে। প্রতি বাংলাবাসীর জন্য বিজেপি দিনরাত এক করে কাজ করবে। বাংলায় মহিলাদের সুরক্ষা মিলবে। যুবদের রোজগার মিলবে। প্রথম ক্যাবিনেটই আয়ুষ্মান ভারত শুরু হবে। অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের সংকল্প সেটাই হবে। বাংলার ভয়মুক্ত পরিবেশ তৈরি করা হবে। বাংলায় নতুন ভোর হবে। প্রথমবার ভোটে কারও প্রাণহানি হয়নি। মানুষ ভয়মুক্ত হয়ে ভোট দিয়েছেন। বাংলার প্রতি রাজনৈতিক দল যেন মিলেমিশে কাজ করেন। বদলা নয় বদল হবে। কে কাকে ভোট দিয়েছে তার ওপরে উঠে মানুষের সেবা করতে হবে।’  


তিনি আরও বলেন, ‘আজকের দিন ঐতিহাসিক। অভূতপূর্ব। বহু বছরের সাধনা পূরণ হয়েছে। এটা দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিক। এটা ভরসার দিন। ভারতের লোকতন্ত্রের ওপর ভরসার দিন। এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারতের ভরসার দিন। বাংলা, অসম, পুদুচেরি, তামিলনাড়, কেরলের মানুষকে প্রণাম করছি। বিজেপির কোটি কোটি সদস্যদের অভিনন্দন। এরা সকলে মিলে কামাল করে পদ্মফুট ফুটিয়েছেন। নতুন ইতিহাস রচিত হয়েছে।’ 


তিনি বলেন, ‘এই ভোটে দলের কর্মীরা দারুণ কাজ করেছে। বিভিন্ন উপ নির্বাচনের ফলও ভাল হয়েছে। সাধারণ মানুষকে এজন্যে ধন্যবাদ। পাঁচ রাজ্যের মানুষ গোটা বিশ্বকে দেখিয়েছে ভারত গণতন্ত্রের পীঠস্থান।’ 

 


রাজ্যের ভোটের হার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে ৯৩ শতাংশ ভোট হওয়া এক ঐতিহাসিক ঘটনা। মহিলাদের ভোটদান সকলের নজর কেড়েছে। এটাই সকলের নজরে পড়েছে। নির্বাচন কমিশনকে এজন্য ধন্যবাদ জানাই। বাংলা জয়ের সঙ্গে গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগরে পদ্মফুল ফুটল।’ 
২০১১ সালে রাজ্যে বামেদের পালাবদল ঘটিয়ে ক্ষমতা এসেছিল ঘাসফুল শিবির। তারপর টানা তিনবার জয়ের হ্যাটট্রিক করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি। তবে ২০২৬ সালে ভোট দেবতার ভাবনায় হয়তো অন্যকিছু ছিল। তাই এবার আর নিজের মুখ্যমন্ত্রী পদ ধরে রাখতে পারলে না তিনি। পশ্চিমবঙ্গের রাশ এবার চলে গেল বিজেপির হাতে।