২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন বাংলার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়৷ ব্যাপক মার্জিনে জিতেছে বিজেপি৷ এর পরেই প্রশ্ন উঠছে বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হতে চলেছেন? মহিলা প্রার্থী হিসাবে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে রূপা গাঙ্গুলিকে নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন রূপা গাঙ্গুলি৷ তৃণমূলের লাভলি মৈত্রকে পরাস্ত করেন বিপুল ভোটে৷ লড়াইটি এতটাই হাড্ডাহাড্ডি যে, রাজ্য জুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছেন এই প্রবীণ অভিনেত্রী-নেত্রী। এমনকি কেউ কেউ মনে করছেন, বিজেপি জয়ী হলে রূপাই হতে পারেন বিজেপির প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী— যদিও এটি এখনো জল্পনা মাত্র।
এক দশকের বেশি সময় ধরেই ভারতীয় জনতা পার্টির সঙ্গে যুক্ত রূপা গাঙ্গুলি। অভিনেত্রী হিসাবেও খ্যাতি পেয়েছেন রূপা গাঙ্গুলি।
১৯৮৮ সালে বি আর চোপড়ার পৌরাণিক টিভি ধারাবাহিক ‘মহাভারত’-এ দ্রৌপদীর চরিত্রে অভিনয় করে রাতারাতি ঘরে ঘরে পরিচিতি পান রূপা। এরপর হিন্দি ও বাংলা চলচ্চিত্র এবং ধারাবাহিকে দীর্ঘ পথ চলা— ‘গণদেবতা’, ‘চন্দ্রকান্তা’, ‘কানুন’, ‘কস্তুরী’, ‘অগলে জনম মোহে বিটিয়া হি কীজো’— তালিকায় অজস্র নাম। বাংলা চলচ্চিত্রে শ্যাম বেনেগাল, ঋতুপর্ণ ঘোষের মতো পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করে তিনি অর্জন করেছেন জাতীয় সম্মানও।
২০১৪-১৫ সাল থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় হতে শুরু করেন রূপা। ২০১৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন। ২০১৫ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি মহিলা মোর্চার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬-র অক্টোবরে নবজ্যোত সিং সিধুর শূন্য আসনে রাজ্যসভায় মনোনীত হন; কার্যকাল ছিল ২০২২-এর এপ্রিল পর্যন্ত। এই ছ’ বছর ধরে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে দলের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে উঠেছেন তিনি।
২০২৬-এর নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৯.৪ কোটি টাকা, কোনো ঘোষিত দায় নেই। স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৬.৯৫ কোটি টাকা— এর মধ্যে রয়েছে কলকাতার টালিগঞ্জে একটি ফ্ল্যাট-সহ একাধিক আবাসিক সম্পত্তি। অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে ব্যাংক ব্যালেন্স, ১.১ কোটি টাকার বেশি মিউচুয়াল ফান্ড এবং একটি মাহিন্দ্রা স্করপিও ও হুন্ডাই গ্র্যান্ড আই-১০।
সোনারপুর দক্ষিণে রেকর্ড ভোটদান, বিজেপির রাজ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে রূপা গাঙ্গুলি অন্যতম দাবিদার৷ তবে এই দাবি এখনো নিছকই সম্ভাবনা; দলের তরফে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই।
















