আজকাল ওয়েবডেস্ক: বঙ্গভূমের ভোট এলেই বঙ্গ জয়ের স্বপ্ন দেখেন দিল্লিতে বসে থাকা বিজেপি নেতারা। কেউ কেউ বলতেন, দিল্লির নেতারা বঙ্গ বিজেপির নেতাদের রিপোর্ট কার্ড দেখেই আস্ফালন করেন। কেউ কেউ বল্নতে সব ঝুটা। মোটের উপর বিষয়খান মিথ্যে হোক বা সত্যি, তার আধারেই স্বপ্ন দেখেছিলেন অমিত শাহ। ফল স্বরূপ রাজ্যের  প্রথম দফার ভোট মিটে যাওয়ার পর আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে  জানিয়েছিলেন ১৫০ আসনের মধ্যে বিজেপি ক্রস করে গিয়েছে একশ আসন। বলেছিলেন, ৫ তারিখ থেকেই অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গ শাসন করবে বিজেপি। হলও তাই। প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত, ২০৮ আসনে এগিয়ে বিজেপি। তৃণমূল এগিয়ে ৭৯ আসনে। 

 

প্রচার পর্বে তৃণমূল সরকারের আমলে নানা দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে একটানা আক্রমণ করে গিয়েছিল বিজেপি। তাদের বার্তা ছিল, ‘পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার’। ২০১১ সালে বাম জমানা শেষ করতে মমতার বার্তা ছিল, ‘পরিবর্তন চাই’। এবারের বার্তা ছিল, ‘যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা’। 

২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল জিতেছিল ২১৫টি আসন। বিজেপি জিতেছিল ৭৭টি আসন। এবারের নির্বাচনেও তৃণমূল আশাবাদী ছিল যে তারা জিতবে। মমতা লাইভে এসে দাবি করেছিলেন, ২২৬টি আসনে জয়ী হবে তৃণমূল। ভোটের লড়াইয়ে মমতা পাশে পেয়েছিলেন আপ এবং সমাজবাদী পার্টির মতো সর্বভারতীয় দলগুলিকে। কন্যাশ্রী-রূপশ্রীর মতো মানবদরদী প্রকল্পে ভরসা করে মমতা ভেবেছিলেন এবারও ক্ষমতা দখলে রাখতে পারবেন কিন্তু তা হল না। 

ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করেছিলেন, ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (এসআইআর) বিপক্ষে যেতে পারে বিজেপির। মোট ৯১ লক্ষ নাম বাদ পড়েছিল ভোটার তালিকা থেকে।  কিন্তু ফলপ্রকাশের পরেই দেখা গেল এসাআইআর কোনও প্রভাব ফেলেনি। বাংলার মানুষ চাইছিল পরিবর্তন। ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান। ২৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী, নির্বাচন কমিশনের কড়া পদক্ষেপের ফলে বাংলার ভোট ছিল শান্তিপূর্ণ। স্বাধীনতার পর থেকে এই প্রথম রেকর্ড পরিমাণ ভোট পড়েছিল রাজ্যে। প্রথম দফায় ভোটের হার ৯৩.১৯ শতাংশ। দ্বিতীয় ভোট পড়েছে ৯২.৪৫ শতাংশ। রাজনীতিতে কথিত আছে, ভোটের হার বেশি হলে তা সাধারণ শাসকদলের কাছে সুখবর নয়। সেই কথাই ফলে গেল আজ।
 


এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, বিজেপি এই রাজ্যের ক্ষেত্রে একেবারে নতুন দল। এ রাজ্যের সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে বারংবার ঠোক্কর খেতে হয়েছে গেরুয়া শিবিরকে। কিন্তু সেই ঝামেলা কাটিয়ে ক্রমে বাঙালির কাছে নিজের হয়ে উঠেছে বিজেপি। আমিষ বিতর্ক থেকে মণীষীদের নাম উচ্চারণে আধো-আবছা ভুল আর বিশেষ কানে লাগছে না বাঙালির। বরং সে খুঁজছে নতুন কিছু। খুঁজছে এমন এক পথ, যেখানে হয়ত মানুষ চাইছেন কেন্দ্র রাজ্যের মধ্যে ক্ষমতার সমন্বয় আসুক, আসুক ডবল-ইঞ্জিন সরকারের উন্নয়ন। তবে সামনে এখনও অনেকটা কঠিন পথ পার হতে হবে বিজেপিকে। এই রাজ্যের সমস্ত ভুলভ্রান্তি কাটিয়ে উঠে মানুষের আসা পুরণ করতে হবে, না হলে পাশা ওল্টাতে বেশিদিন লাগবে না। ভুলে গেলে চলবে না, বিরোধী নেত্রী হিসাবে মমতা ব্যানার্জি কিন্তু সবচেয়ে ভয়ঙ্কর।