রাজারহাট গোপালপুর কেন্দ্রে জিতলেন বিজেপি প্রার্থী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি৷ পরাজিত হলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অদিতি মুন্সী৷ তর্জন গর্জন নয়, রাজনীতির চেনা ছকের বাইরে মিষ্টি হাসি, মিষ্টি কথা আর সুরের জাদুই ছিলি অদিতির অস্ত্র৷ তারকা প্রার্থীর তকমা, মিষ্টি হাসি, কীর্তনের সুর সবই ফিকে হয়ে গেল তরুণজ্যোতির ছটায়৷
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন বঙ্গ রাজনীতির ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়৷ এইবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভরসার মান রাখতে পারলেন না অদিতি মুন্সী। যদিও নির্বাচনের আগেই জয়ের বিষয় প্রত্যয়ী ছিলেন অদিতি৷ আজকাল ডট ইন-কে বলেছিলেন, 'কতটা বেশি ব্যবধানে জিততে পারি সেটাই লক্ষ্য'৷ হল না লক্ষ্যপূরণ, হারের ব্যবধান ২৭,৭৫৭
২০২১ সালেও তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে জয়লাভ করেছিলেন অদিতি৷ সেইসময় পূর্ণেন্দু বসুর জায়গায় অদিতি মুন্সীকে প্রার্থী করে চমকে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অদিতি জিতেছিলেন৷ তৃণমূলের জয়ের ব্যবধানও বেড়েছিল। জয়ী ব্যবধান ছিল ২৫,২৯৬।

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে অদিতির প্রধান প্রতিপক্ষ ছিলেন বিজেপির তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। এছাড়াও লড়াইতে ছিলেন বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআইএম প্রার্থী শুভজিত দাশগুপ্ত এবং কংগ্রেসের পার্থ ভৌমিক। প্রতিপক্ষ সম্পর্কে অদিতি কখনও কিছু না বললেও রাজারহাট গোপালপুর কেন্দ্রে তৃণমূল বিজেপির লড়াই ছিল হাড্ডাহাড্ডি।
অদিতির রাজনীতির লড়াইতে স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। অদিতি নিজেও সেকথা স্বীকার করেন৷ পরিবারের সকলের অকুণ্ঠ সমর্থন ছিল অদিতির অস্ত্র। সদ্য মা হয়েছেন অদিতি৷ সদ্যোজাতকে বাড়িতে রেখে প্রচারে বেরিয়েছিলেন অদিতি৷ জনসংযোগে ঘাটতি ছিল না। পোশাকে ব্যবহারে বরাবর পাশের বাড়ির মেয়ের ইমেজ ধরে রেখেছিলেন অদিতি মুন্সী৷ কিন্তু পাশের বাড়ির মেয়েকে পর করে দিলেন রাজারহাট গোপালপুরের মানুষ৷ হরিনামে গোপালসেবার পাশাপাশি গোপালপুরের মানুষের সেবা থেকে ব্রাত্য অদিতি।
















