আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাত পোহালেই রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। বুধবার নিয়ে রাজ্যজুড়ে তুঙ্গে উত্তেজনা। এর মধ্যেই আবারও বিতর্ক দক্ষিণবঙ্গের ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রে। ভোটগ্রহণের আগে কোচবিহার জেলার প্রায় ৩৫০ জন সরকারি কর্মীকে হঠাৎ করে ভোটের দায়িত্ব দেওয়াকে কেন্দ্র করে চরম বিতর্ক।
অভিযোগ, সোমবার দুপুরে ইমেলের মাধ্যমে এই নির্দেশ পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয় মঙ্গলবার সকাল ১০টার মধ্যে নির্দিষ্ট ডিসিআরসি কেন্দ্রে রিপোর্ট করতে হবে। অথচ ওই কর্মীদের অনেকেই রয়েছেন কোচবিহারে। অর্থাৎ, কলকাতা থেকে প্রায় ৭১৩ কিলোমিটার দূরে।
এই স্বল্প সময়ের মধ্যে এত দূরে পৌঁছনো প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে কর্মীদের কাছে। ফলে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন তাঁরা। জানা গিয়েছে, এই কর্মীদের অধিকাংশই ইতিমধ্যেই প্রথম দফার ভোটে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবুও তাঁদের আবার দ্বিতীয় দফার জন্য নিয়োগ করা হয়েছে, যা নিয়ে অসন্তোষ আরও বেড়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বহু কর্মী ব্যক্তিগত উদ্যোগে যাত্রার ব্যবস্থা করেন। পোস্টাল ডিপার্টমেন্টের ৪৭ জন কর্মীর মধ্যে প্রায় ৩০ জন মিলে ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা খরচ করে একটি ভলভো বাস ভাড়া করেন। সোমবার সন্ধ্যায় সেই বাসে চেপে তাঁরা উত্তর ২৪ পরগনার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ভোট শেষে আবার একই বাসে ফিরে আসার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।
ভোটকর্মী লিয়াকত আলি সরকার বলেন, “মঙ্গলবার সকাল ৮টার মধ্যে বিধাননগর কলেজে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। এত কম সময়ে এত দূরে যাওয়া সম্ভব নয়। অন্তত দু’দিন আগে জানানো উচিত ছিল।” তিনি আরও জানান, ভোটের ডিউটির জন্য যেখানে ১৫০০-২০০০ টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া হবে, সেখানে যাতায়াত ও খাওয়াদাওয়ার খরচ মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।
অন্য এক কর্মী অনির্বাণ চৌধুরি বলেন, “২৩ তারিখ প্রথম দফার ভোটে কাজ করেছি। আবার ডিউটি করতে আপত্তি নেই, কিন্তু এত কম সময়ের নোটিসে ৭০০ কিলোমিটার দূরে পৌঁছনো অত্যন্ত কঠিন। জেলাশাসকের দপ্তরে গিয়ে সাহায্য চাইলে নিজেদেরই ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।”
জানা গিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে অনেকেই তড়িঘড়ি কলকাতার উদ্দেশ্যে ট্রেন ও বাসে রওনা হয়েছেন। তবে পর্যাপ্ত পরিবহণের অভাব এবং সময়ের সঙ্কটে চরম সমস্যায় পড়েছেন কর্মীরা।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে প্রশাসনের বক্তব্য ভিন্ন। অতিরিক্ত জেলাশাসক দীননারায়ণ ঘোষ জানান, রবিবার রাতেই নির্বাচন কমিশন থেকে প্রায় সাড়ে তিনশো কর্মীর ডিউটির নির্দেশ আসে এবং তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়। তিনি দাবি করেন, কর্মীদের জন্য আরটিও-র মাধ্যমে দু’টি গাড়ির ব্যবস্থাও করা হয়েছিল, তবে পরে আর কেউ যোগাযোগ করেননি।
এই পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলছেন কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, এত বড় প্রশাসনিক দায়িত্বের ক্ষেত্রে পরিকল্পনার অভাব স্পষ্ট। ভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় এই ধরনের হটকারি সিদ্ধান্ত কর্মীদের উপর অযথা চাপ তৈরি করছে।















