আজকাল ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘ ৪০ বছরের ‘সক্রিয়’ রাজনৈতিক জীবনে বহু নির্বাচনের ফলাফল তিনি দেখেছেন। টানটান উত্তেজনা, শেষ মুহূর্তের অঙ্ক, বুথফেরত সমীক্ষা নিয়ে জল্পনা, সবই তাঁর কাছে চেনা ছবি ।

কিন্তু এবার ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার আগের দিন একেবারেই অন্য মেজাজে ধরা দিলেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা বহরমপুর কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী।

রবিবার বহরমপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কার্যত ‘নির্লিপ্ত’ অধীর বললেন, ‘জনগণ ইতিমধ্যেই তাঁদের রায় জানিয়ে দিয়েছেন। এরপর আমি চিন্তা করে আর কী করব? বেশি ভেবে তো আর ভোটের ফলাফল বদলে দিতে পারব না। ফল যা হওয়ার হবে, সময় এলেই দেখা যাবে।’

রাজনৈতিক মহলের মতে, অধীরকে শেষ কবে এতটা ‘নিরুত্তাপ’ দেখা গিয়েছে, মনে করতে পারছেন না অনেকেই। এদিন তাঁর চোখে-মুখে উৎকণ্ঠার লেশমাত্র ছিল না। বরং খানিকটা দার্শনিকের সুরেই তিনি যোগ করেন, ‘এখন না ঘুমিয়ে, না খেয়ে কী লাভ? মানুষ তো তাঁদের রায় দিয়ে দিয়েছেন। এসব নিয়ে টেনশন করার কোনও মানে হয় না। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। ইভিএম খুললেই সব স্পষ্ট হয়ে যাবে।’

উল্লেখ্য, অধীর চৌধুরীর বিধানসভা যাত্রা শুরু হয়েছিল ঠিক ৩০ বছর আগে। ১৯৯৬ সালে নবগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের টিকিটে প্রথমবার বিধায়ক নির্বাচিত হন তিনি।

রাজ্য রাজনীতিতে তাঁর উত্থান শুরু সেখান থেকেই। তবে বিধায়ক হিসেবে তাঁর ইনিংস দীর্ঘ হয়নি। মাত্র তিন বছরের মাথায়, ১৯৯৯ সালে বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়ে দিল্লির রাজনীতিতে পা রাখেন অধীর।

তারপর বহরমপুরে ভাগীরথীর ওপর দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে। টানা পাঁচবারের সাংসদ, লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। একের পর এক সিঁড়ি ভেঙে জাতীয় রাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন তিনি।

কিন্তু ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ইউসুফ পাঠানের কাছে হারতে হয় অধীরকে। প্রায় ৩০ বছর পর ফের অধীরের বিধানসভার লড়াইয়ে নামা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছিল তুঙ্গে।

তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের ফলাফল নিয়ে আজ তিনি টেনশন না করলেও বহরমপুর থেকে জিতলে অধীর তাঁর কেরিয়ারে নতুন রাজনৈতিক দিশা নির্ধারণ করতে পারেন।

তবে নির্বাচনের ফলাফল অধীরের বিরুদ্ধে গেলে তাঁর কেরিয়ার আরও অতল গহ্বরে তলিয়ে যাবে। মুর্শিদাবাদ জেলার বাকি ২১টি কেন্দ্রেও কংগ্রেস প্রার্থীরা কেমন ফলাফল করেন তার দিকেও সকলের নজর রয়েছে।

এবারের নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ জেলার সমস্ত কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থীদের নাম নিজের হাতে ঠিক করেছিলেন অধীর। কংগ্রেসের রাজ্য বা কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব একবারের জন্যও মাথা গলাননি।

সেক্ষেত্রে, মুর্শিদাবাদের আসনগুলিতে কংগ্রেস প্রার্থীরা জিতলে রাজ্য রাজীনীতিতে যে অন্যতম বড় মুখ হয়ে উঠবেন অধীর তা বলাই বাহুল্য।