আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনিক স্তরে নির্বাচন কমিশনের একাধিক বদলির নির্দেশ ঘিরে রাজ্য–কেন্দ্রের সম্পর্কের নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখে কমিশনের পদক্ষেপ নিয়ে গভীর আপত্তি ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর চিঠি অনুযায়ী, ১৫ এবং ১৬ মার্চ জারি হওয়া নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একাধিক শীর্ষ প্রশাসনিক পদে হঠাৎ বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র ও পাহাড় বিষয়ক দপ্তরের সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এই ধরনের ব্যাপক প্রশাসনিক পরিবর্তনের জন্য কোনও নির্দিষ্ট কারণ বা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও সামনে আনা হয়নি।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে ভারতীয় সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলির অধীনে নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচনী দায়িত্বে নিযুক্ত সরকারি আধিকারিকদের উপর কমিশনের নিয়ন্ত্রণ থাকে। তবে অতীতের নির্বাচনে একটি প্রতিষ্ঠিত প্রশাসনিক রীতি ছিল যে এ ধরনের বদলির ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করা এবং প্রয়োজনে রাজ্য সরকারের কাছ থেকে বিকল্প কারা এই ধরণের তিনজন আধিকারিকের একটি তালিকা চাওয়া। সেই তালিকা থেকে নির্বাচন কমিশন একজনকে নির্বাচন করত।
মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, এবারের ক্ষেত্রে সেই দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক রীতি মানা হয়নি। বরং বিধানসভা নির্বাচনের ঘোষণা হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোর শীর্ষ স্তরে বদলির সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপ একতরফা এবং তা ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভারসাম্যকে নষ্ট করতে পারে।
চিঠিতে তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। সেই কারণে কমিশনের প্রত্যেকটি পদক্ষেপের মধ্যে শুধু ক্ষমতার প্রয়োগ নয়, সংবিধানের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর চেতনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধও প্রতিফলিত হওয়া উচিত। এই প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রী কমিশনকে ভবিষ্যতে এমন একতরফা পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের দীর্ঘদিনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। প্রশাসনিক বদলি নিয়ে রাজ্য সরকারের এই আপত্তি সেই উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন কমিশন এই চিঠির প্রেক্ষিতে কী প্রতিক্রিয়া জানায় এবং রাজ্য–কেন্দ্র সম্পর্কের এই নতুন বিতর্ক কোন দিকে গড়ায়।
