আজকাল ওয়েবডেস্ক: বৃহস্পতিবার রাতে দুই ইভিএম স্ট্রং রুম ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র এবং শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিল। ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে ধর্নায় বসেছিলেন শশী পাঁজা এবং কুণাল ঘোষ। শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে চলে গিয়েছিলেন খোদ তৃণমূলনেত্রী মমতা ব্যানার্জি। এই ঘটনার পরে শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দপ্তরে যায় তৃণমূলের প্রতিনিধিদল। স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে তৃণমূলের তরফ থেকে।
শুক্রবার সিইও দপ্তর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের তিন সদস্য শশী পাঁজা, ফিরহাদ হাকিম এবং অসীম বসু। শশী জানান, জরুরি ভিত্তিতে বৈঠকের জন্য তৃণমূলের তরফ থেকে সিইও মনোজ আগরওয়ালকে ইমেল করা হয়েছিল। কিন্তু মেলের কোনও জবাব মেলেনি। আজ তাঁর অতিরিক্ত সিইও-র সঙ্গে বৈঠক করে তাঁদের অভিযোগগুলি তুলে ধরেছেন।
তৃণমূল জানিয়েছে, কলকাতার নানা স্ট্রং রুমে সিসিটিভি মনিটরিং বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়ে অভিযোগ জানানো হয়েছে। এছাড়াও, জলপাইগুড়ি, গাইঘাটা, হরিপাল বিধানসভা, সাগরদিঘি, রামপুরহাট, আউসগ্রাম, আরামবাগ, নৈহাটি, এগরা, শালবনি ছাড়াও আরও নানা স্ট্রং রুমের নিরবিচ্ছিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ বিঘ্নিত হওয়ার অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, স্ট্রং রুমের সিসিটিভি ফুটেজ যে কোনও পরিস্থিতি বিঘ্ন হওয়া যাবে না। যদি তা হয় তাহলে সেখানে রাখা ইভিএমের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়, কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। কিন্তু বারবার একই ধরনের সমস্যা হওয়া প্রশ্ন উঠতে বাধ্য এবং এই বিষয়গুলিকে সামান্য যান্ত্রিক ত্রুটি বলে এড়িয়ে যাওয়া যায় না।
তৃণমূলের তরফ থেকে সিইও-কে সব স্ট্রং রুমের সিসিটিভির সমস্যা মেটানোর অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়াও সব সিসিটিভির সম্পূর্ণ ফুটেজ চাওয়া হয়েছে কমিশনের কাছে। যেই সময়ে সিসিটিভিতে সমস্যা দেখা দিয়েছে ঠিক সেই সময়ের ফুটেজও আলাদ করে চাওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবারের ঘটনার পরে শহরের সাতটি নির্ধারিত স্ট্রং রুমের চারপাশে জারি করা হল ভারতীয় ন্যায় সংহিতা আইনের ১৬৩ ধারা। কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় কুমার নন্দের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি স্ট্রংরুমের ২০০ মিটারের মধ্যে পাঁচজন বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি মিছিল, বিক্ষোভ, অস্ত্র বহন এবং বিস্ফোরক সামগ্রী নিয়ে প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, গণনাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনওরকম অশান্তি, হিংসা বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে, সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ৪ মে পর্যন্ত এই নিয়ম বলবৎ থাকবে।















