আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজনীতিতে তিনি বহু বছর ধরে পরিচিত। সেটা নানা কারণে হতে পারে। কখনও তিনি শিরোনামে এসেছেন তাঁর অ্যাগ্রেসিভ মনোভাবের জন্য, কখনও তাঁর কোনও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য, আবার কখনও ভাঙড়ের মতো উত্তপ্ত এলাকার পরিস্থিতি ঠান্ডা মাথায় সামলানোর জন্য।

কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন মেটার পর ভাঙড়ের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী শওকত মোল্লা এখন রাজ্যবাসীর মুখে মুখে। তার কারণ শুধুমাত্র একটা গান। ‘শওকত মাছ চোর’ এখন মনে হয় প্রত্যেকেই গুনগুন করে গাইছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমত ভাইরাল হয়ে গিয়েছে এই গানটা।

অনেকে এই গানটাকে এবারের নির্বাচনের সেরা গানের তকমা লাগিয়ে দিয়েছেন এর মধ্যেই। কিন্তু এই গানটা যাকে নিয়ে, অর্থাৎ তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লা, তিনি কী বলছেন?

আজকাল ডট ইনের তরফে শওকতকে ফোনে এই গানের প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হলে তৃণমূল নেতার গলায় ক্ষোভের ছাপ স্পষ্ট। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই তো গানটা এখন শোনা যাচ্ছে, আপনার কী মতামত?

ভাঙড়ের তৃণমূল প্রার্থী বললেন, ‘এটা খুব অত্যন্ত লজ্জাজনক। এটা অত্যন্ত সংকীর্ণ মনোভাবের পরিচয়।’ শওকত আরও বলেন, ‘কেউ যখন মানুষ থেকে অমানুষে পরিণত হয়, তখন তারা এই ধরনের মানসিকতা দেখায়।’

তবে এই গানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন শওকত। তিনি বলেন, ‘এই ধরনের ঘটনার আমি তীব্র নিন্দা করছি। আমি এই বিষয়ে আইনের পথে হাঁটব।’

জানা গেল, এই গান শওকতের কানেও গিয়েছে। তিনি বললেন, ‘আমি ওই যেতে যেতে এদিক ওদিক প্রচারে কিছুটা শুনেছি। আমার ভাল লাগেনি। এই ধরনের নোংরামো এবং সংকীর্ণতা খুব ছোট মানুষের পরিচয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেখুন যারা এটা তৈরি করেছে, সেই দলের নেতা একজন ধর্ষক। একজন ধর্ষকের থেকে বা তার দলের কাছ থেকে এর চেয়ে বেশি আর কীই বা আশা করা যেতে পারে।’

শওকত মোল্লার সামনে যদি তাঁর দলেরই কোনও কর্মীর ফোনে এই গানটা বেজে ওঠে তাহলে আপনি কি তাঁকে বকবেন? তৃণমূল নেতার কথায়, ‘এটায় তো প্রত্যেকেরই খারাপ লাগবে। এই ধরনের ঘটনায় খুব স্বাভাবিক তো খারাপ লাগা। কিন্তু এই গানটাই হয়তো আমার পজিটিভ দিকটাকে দেখিয়ে দেবে। কোনও শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ, কোনও শিক্ষিত বা বুদ্ধিজীবী মানুষ, তাঁরা এই ধরনের গান বা এই ধরনের অ্যাটিচিউড বা এই ধরনের নিম্ন রুচিপূর্ণ মনোভাব কখনও তারা মেনে নেবে না।’

এই গানটা ভাইরাল হওয়ার প্রভাব কি তাহলে শওকত মোল্লার ভোটবাক্সে পড়বে? তিনি বলেন, ‘এটা শুনে কেউ আমোদ পেতে পারে, দুঃখ পেতে পারে, কষ্ট পেতে পারে, হাসি পেতে পারে। সেটা ৪ তারিখে ভোটের বাক্সেই দেখতে পাবেন।’