আজকাল ওয়েবডেস্ক: জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ তৃণমূল কংগ্রেস। দুই দফায় হওয়া পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের গণনাকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে নিয়োগ করার বিষয়ে কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করল তৃণমূল। দেশের শীর্ষ আদালতে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এই আবেদন মঞ্জুর করেছেন। শনিবার বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি পিএস নরসিমার বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হবে। 

ভোটগণনা কেন্দ্রে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সুপারভাইজার হিসেবে নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেছিল তৃণমূল। আদালত সেই মামলা খারিজ করে দেয়। কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাও বলেন যে, রাজ্য সরকারি কর্মীদের পরিবর্তে কেন্দ্রীয় সরকার বা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার কর্মীদের গণনা তত্ত্বাবধায়ক ও সহকারী হিসেবে নিয়োগ করার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অবৈধ নয়।  আদালতের পর্যবেক্ষণ, “রাজ্য সরকার বা কেন্দ্রীয় সরকার থেকে গণনা তত্ত্বাবধায়ক এবং গণনা সহকারী নিয়োগ করার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের বিশেষাধিকার।”

গত ৩০ এপ্রিল রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে একটি বিজ্ঞপ্ত জারি করা বলা হয় যে, গণনাকেন্দ্রে প্রতিটি টেবিলে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে একজন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীকে থাকবে হবে। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে যায় তৃণমূল। শাসকদলের হয়ে আইনজীবি কল্যাণ ব্যানার্জি যুক্তি দেন যে, কমিশনের এই নির্দেশ এক্তিয়ার বহির্ভূত এবং শুধুমাত্র আশঙ্কার ভিত্তিতে জারি করা হয়েছে। আরও যুক্তি দেওয়া হয় যে, নিযুক্ত কর্মী বিজেপি দ্বারা প্রভাবিতও হতে পারেন। আদালতের এই আশঙ্কার কথা উড়িয়ে দেন এবং গণনাকেন্দ্রে একাধিক ব্যক্তির উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে মামলা খারিজ করে দেয়। এর পরেই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে তৃণমূল।

কমিশনের তরফে উপস্থিত আইনজীবী যুক্তি দেন যে, প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি অনুসারেই নিয়োগগুলি সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি আরও যুক্তি দেন যে, কোনও একটি রাজনৈতিক দল কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণকে প্রশ্ন করতে পারে না এবং কেন্দ্রীয় কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার উদ্দেশ্যই ছিল পক্ষপাতিত্বের প্রশ্ন যাতে না ওঠে সেই দিকে নজর দেওয়া।