আজকাল ওয়েবডেস্ক: তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই দক্ষিণী রাজনীতির অলিন্দে টানটান উত্তেজনা। রাজ্য রাজনীতিতে এখন একটাই প্রশ্ন— থালাপতি  বিজয় কি পারবেন রাজভবনের চৌকাঠ পেরিয়ে ফোর্ট সেন্ট জর্জে বসতে? কিন্তু সরকার গড়ার সেই ম্যাজিক ফিগারের সন্ধানে বিজয় যে ‘ডিজিটাল’ পথ বেছে নিয়েছেন, তা নিয়ে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে চেন্নাইয়ের রাজনৈতিক মহলে।

২৩ এপ্রিলের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে এসেছে বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেট্টি কাড়াগাম’ (TVK)। কিন্তু সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮টি আসন থেকে কিছুটা দূরে থমকে গেছে বিজয়ের রথ। বর্তমানে তাঁর হাতে আছে ১০৮ জন বিধায়ক, আর কংগ্রেসের ৫ জনের সমর্থন মিলিয়ে সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ১১৩। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন আরও অন্তত ৫ জন বিধায়ক। আর এই পাঁচ বিধায়কের সমর্থন জোগাড় করতে প্রথাগত রাজনীতির বাইরে গিয়ে বিজয় ও তাঁর দল সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) মেসেজ পাঠিয়েছেন সিপিআই, সিপিএম এবং ভিসিকে (VCK)-র মতো পোড়খাওয়া দলগুলোকে।

বামপন্থী এবং ভিসিকে নেতাদের একাংশ এই ঘটনায় রীতিমতো বিস্মিত। তাঁদের মতে, সরকার গড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্য কোনও  প্রতিনিধি দল পাঠানো বা সরাসরি দেখা করার বদলে স্রেফ একটি মেসেজ পাঠিয়ে দেওয়াটা অনেকটা ‘জেন-জে’ (Gen-Z) ঘরানার রাজনীতি। এক বাম নেতা কিছুটা রসিকতা করেই বললেন, "হয়তো এটাই আজকের দিনের আধুনিক জোট রাজনীতি!" তবে এই ডিজিটাল আমন্ত্রণে অনেকের মধ্যে অস্বস্তিও কাজ করছে। তাঁদের প্রশ্ন, ফোর্ট সেন্ট জর্জের মতো গুরত্বপূর্ণ শাসনভার কি এত ক্যাজুয়ালভাবে আলোচনা করে নেওয়া সম্ভব?

অন্যদিকে, রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আর্লেকরের সঙ্গে টানা দু’দিন বৈঠক করেছেন বিজয়। তিনি দাবি করেছেন, যেহেতু টিভিকে (TVK) একক বৃহত্তম দল, তাই তাঁকে আগে সরকার গড়ার জন্য শপথ নিতে দেওয়া হোক এবং বিধানসভার ফ্লোরে তিনি সংখ্যা গরিষ্ঠতা প্রমাণ করবেন। কিন্তু রাজ্যপাল নিজের অবস্থানে অনড়। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিজয়ের হাতে ১১৮ জন বিধায়কের যে সমর্থন আছে, তার লিখিত প্রমাণ বা প্রামাণ্য নথি আগে রাজভবনে জমা দিতে হবে। রাজ্যপালের এই কঠোর অবস্থানের পর বিজয়ের নীলঙ্করাইয়ের বাসভবনে দফায় দফায় বৈঠক চলছে। আইনি পথে হাঁটা হবে নাকি নতুন কোনও  সমীকরণ তৈরি হবে, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

বিজয়ের এই তৎপরতার মধ্যেই সাবধানী পা ফেলছে দুই দ্রাবিড়ীয় দল ডিএমকে (DMK) এবং এআইএডিএমকে (AIADMK)। এম কে স্ট্যালিন তাঁর দলের বিধায়কদের ১০ মে পর্যন্ত চেন্নাই না ছাড়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, এআইএডিএমকে প্রধান ইডাপ্পাদি কে পালানিস্বামী তাঁর ৪৭ জন বিধায়ককে পুদুচেরির একটি বিলাসবহুল রিসোর্টে পাঠিয়ে দিয়েছেন, যাতে কোনওভাবেই ঘোড়া কেনাবেচার সুযোগ না থাকে।

এখন দেখার বিষয়, হোয়াটসঅ্যাপের এই নতুন ধারার রাজনীতি শেষ পর্যন্ত বিজয়কে তামিলনাড়ুর মসনদে বসাতে পারে কি না। বাম দলগুলো এবং ভিসিকে এখনও তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি। থলপতি বিজয়ের ‘স্ক্রিন প্লে’ কি বাস্তবে সফল হবে নাকি রাজভবনের আইনি গেরোয় আটকে যাবে তাঁর স্বপ্ন, তার উত্তর মিলবে আগামী কয়েক দিনেই।