চাকরিজীবীদের কাছে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড সাধারণত অবসরকালীন সঞ্চয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। প্রতি মাসে কর্মী এবং নিয়োগকর্তার নির্দিষ্ট অবদানে এই তহবিল গড়ে ওঠে এবং তার উপর সরকার নির্ধারিত হারে সুদও প্রদান করে।
2
14
দীর্ঘমেয়াদে এই সঞ্চয় অবসরের পর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে অনেকেই জানেন না, ইপিএফ শুধু সঞ্চয়ের সুবিধাই দেয় না, এর সঙ্গে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ জীবনবিমার সুবিধাও, যার জন্য কর্মীকে কোনও অতিরিক্ত প্রিমিয়াম দিতে হয় না।
3
14
এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন পরিচালিত ইডিএলআই প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেক সক্রিয় ইপিএফ সদস্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে জীবনবিমার সুরক্ষা পান। এই বিমার জন্য কর্মচারীকে আলাদা করে আবেদন করতে হয় না বা অতিরিক্ত কোনও অর্থ জমা দিতে হয় না। অর্থাৎ, ইপিএফ অ্যাকাউন্ট সক্রিয় থাকলেই নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে এর সুবিধা কার্যকর থাকে।
4
14
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ইপিএফ সদস্য কর্মরত অবস্থায় মারা গেলে তাঁর মনোনীত ব্যক্তি অথবা আইনত উত্তরাধিকারীরা এই স্কিমের অধীনে বিমার অর্থ দাবি করতে পারেন।
5
14
এই প্রকল্পে ন্যূনতম ২.৫ লক্ষ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাওয়া সম্ভব। ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ভর করে কর্মীর শেষ প্রাপ্ত বেতন এবং ইপিএফ অ্যাকাউন্টের বিভিন্ন তথ্যের উপর।
6
14
এই স্কিমের একটি বড় সুবিধা হল, এর জন্য কর্মচারীর পকেট থেকে এক টাকাও খরচ হয় না। এই বিমার প্রিমিয়াম সম্পূর্ণভাবে নিয়োগকর্তা বহন করেন।
7
14
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, নিয়োগকর্তা কর্মীর বেতনের ০.৫ শতাংশ এই তহবিলে জমা করেন। ফলে কর্মীরা কোনও অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা ছাড়াই জীবনবিমার সুরক্ষা পেয়ে থাকেন।
8
14
সম্প্রতি ইপিএফও ৩ চালুর মাধ্যমে সংস্থাটি পরিষেবাগুলিকে আরও আধুনিক, ডিজিটাল এবং দ্রুততর করার উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় পিএফ দাবি, অ্যাকাউন্ট পরিচালনা, ইউএএন সংক্রান্ত পরিষেবা এবং অন্যান্য প্রক্রিয়া আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়েছে।
9
14
নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় নথিপত্র সঠিকভাবে জমা পড়লে সাধারণত ২০ দিনের মধ্যে বিমার দাবি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়। এতে মৃত কর্মীর পরিবার দ্রুত আর্থিক সহায়তা পেতে পারে, যা কঠিন সময়ে বড় ভরসা হয়ে ওঠে।
10
14
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইপিএফ সদস্যদের কয়েকটি বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকা উচিত। প্রথমত, ইউএএন সবসময় সক্রিয় ও কেওয়াইসি ভেরিফায়েড রাখা জরুরি।
11
14
দ্বিতীয়ত, ইপিএফ অ্যাকাউন্টে নমিনির তথ্য নিয়মিত আপডেট করা উচিত। অনেক ক্ষেত্রেই নমিনির তথ্য না থাকায় বা ভুল থাকায় বিমার অর্থ পেতে পরিবারের সদস্যদের অপ্রয়োজনীয় জটিলতার মুখে পড়তে হয়।
12
14
এছাড়া চাকরি পরিবর্তনের সময় নতুন প্রতিষ্ঠানে ইপিএফ অ্যাকাউন্ট স্থানান্তর করাও গুরুত্বপূর্ণ। এতে পরিষেবার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এবং ভবিষ্যতে পিএফ ও ইডিএলআই-র সুবিধা পেতে সমস্যা হয় না।
13
14
সব মিলিয়ে বলা যায় ইপিএফ শুধুমাত্র অবসরকালীন সঞ্চয়ের প্রকল্প নয়, এটি কর্মজীবনের পাশাপাশি পরিবারের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সুরক্ষা ব্যবস্থা।
14
14
তাই প্রতিটি ইপিএফ সদস্যের উচিত নিজের অ্যাকাউন্টের তথ্য, কেওয়াইসি এবং নমিনির বিবরণ নিয়মিত যাচাই ও আপডেট রাখা, যাতে প্রয়োজনে পরিবারের সদস্যরা সহজেই এর অধীনে সর্বোচ্চ ৭ লক্ষ পর্যন্ত জীবনবিমার সুবিধা পেতে পারেন।