আজকাল ওয়েবডেস্ক: চার দিনের টানটান রাজনৈতিক উত্তেজনার অবসান। অবশেষে তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন নিয়ে সব ধোঁয়াশা কাটল। রবিবার চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন টিভিকে প্রধান সি জোসেফ বিজয়। দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যে এক নতুন রাজনীতির সূচনা হল তাঁর হাত ধরে।

১৯৬৭ সালের পর এই প্রথম রাজ্যের মসনদে এমন একজন বসলেন, যিনি ডিএমকে বা এআইডিএমকে তামিলনাড়ু -এই দুই প্রধান দ্রাবিড় শিবিরের সদস্য নন। এ দিন বিজয়ের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাহুল গান্ধি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রীর বাবা এস এ চন্দ্রশেখর ও মা শোভা চন্দ্রশেখর। রুপোলি পর্দার জগত থেকে এসেছিলেন তৃষা কৃষ্ণন-সহ বহু তারকা।

২৩৪ আসনের বিধানসভায় গরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য প্রয়োজন ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন। বিজয়ের সঙ্গে রয়েছেন ১২০ জন। শনিবারই ‘ভিসিকে’ এবং ‘আইইউএমএল’ নিঃশর্ত সমর্থন জানানোয় কেল্লাফতে করেন বিজয়। তার আগেই কংগ্রেস এবং বামেরা (সিপিআই ও সিপিএম) তাঁকে সমর্থনের কথা জানিয়ে দিয়েছিল। তবে এই দলগুলি মন্ত্রিসভায় যোগ না দিয়ে বাইরে থেকেই সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে।

শনিবার রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের হাতে সমর্থনপত্র তুলে দেন বিজয়। সংখ্যাতত্ত্ব খতিয়ে দেখে রাজ্যপাল তাঁকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান। রাজভবন থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১৩ মে-র মধ্যে বিজয়কে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে।

গত চার দিন ধরে সরকার গঠন নিয়ে বিস্তর টানাপোড়েন চলেছে। রাজ্যপাল প্রথমে সংখ্যার বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারছিলেন না। তবে ডিএমকে-র সঙ্গ ছেড়ে কংগ্রেস বিজয়ের হাত ধরতেই পুরো হিসাব বদলে যায়। 

শেষে ছোট দলগুলোর সমর্থন নিয়ে ম্যাজিক ফিগার পেরিয়ে যান ৫১ বছর বয়সি এই তারকা-নেতা। আজ শপথ নেওয়ার পর এবার তাঁর সামনে বড় পরীক্ষা। আগামী ১৩ মে-র মধ্যে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে বিজয়কে।