আজকাল ওয়েবডেস্ক:  ভারতে ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার দ্রুত বিকাশ বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। আজ একজন সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন, মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করতে পারেন, বীমা নিতে পারেন কিংবা ট্রেডিং শুরু করতে পারেন—সবই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে। একবার পরিচয় যাচাই বা কেওয়াইসি সম্পন্ন হলেই সেটি সর্বত্র ব্যবহারযোগ্য হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে ছবিটা একেবারেই আলাদা।


ব্যাঙ্কে কেওয়াইসি করলেন, তারপর মিউচুয়াল ফান্ডে আবার কেওয়াইসি, নতুন কোনও ফিনটেক অ্যাপে সাইন আপ করলেও আবার সেই একই প্রক্রিয়া। কয়েক মাস পর আবার কেওয়াইসি আপডেট করার নোটিফিকেশন। ফলে কোটি কোটি ভারতীয়ের জন্য কেওয়াইসি এখন এক অন্তহীন প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে।


এই সমস্যার সমাধান হিসেবে চালু হয়েছিল সিকেওয়াইসি ব্যবস্থা। এর মূল লক্ষ্য ছিল একবার কেওয়াইসি সম্পন্ন করলে সেটি একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেসে সংরক্ষিত থাকবে, এবং একটি ইউনিক ১৪-সংখ্যার সিকেওয়াইসি নম্বরের মাধ্যমে যেকোনও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সেই তথ্য ব্যবহার করতে পারবে। 
একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, সিকেওয়াইসির উদ্দেশ্য ছিল একটি স্ট্যান্ডার্ডাইজড কেওয়াইসি রেকর্ড তৈরি করা, যা পুরো আর্থিক ব্যবস্থায় পুনর্ব্যবহারযোগ্য হবে। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, পেমেন্টের ক্ষেত্রে যেমন ইউপিআই একটি কমন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, সিকেওয়াইসির লক্ষ্য ছিল পরিচয় যাচাইকরণের ক্ষেত্রে সেই একই সুবিধা এনে দেওয়া।


তাহলে সমস্যা কোথায়?
প্রথমত, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কেওয়াইসি নীতি ও ঝুঁকি মূল্যায়নের পদ্ধতি রয়েছে। ফলে তারা অনেক সময় সিকেোয়াইসি ডাটাবেসে থাকা তথ্যের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর করতে চায় না। বিশেষ করে বেশি ঝুঁকির গ্রাহকদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাই করা হয়।


দ্বিতীয়ত, সিকেওয়াইসি ডাটাবেসে তথ্য আপডেট বা সিঙ্ক করার ক্ষেত্রে এখনও অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অনেক সময় ব্যবহারকারীর তথ্য পুরনো হয়ে যায় বা অসম্পূর্ণ থাকে, যার ফলে প্রতিষ্ঠানগুলি নতুন করে কেওয়াইসি করতে বলে।


তৃতীয়ত, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলির আলাদা আলাদা নির্দেশিকা রয়েছে। ব্যাঙ্ক, সেবি-নিয়ন্ত্রিত সংস্থা, বীমা কোম্পানি—সবাই আলাদা নিয়ম মেনে চলে। ফলে একটি ইউনিফায়েড অভিজ্ঞতা তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ে।


চতুর্থত, প্রযুক্তিগত ইন্টিগ্রেশনের অভাবও একটি বড় কারণ। অনেক প্রতিষ্ঠান এখনও সিকেওয়াইসি সিস্টেমের সঙ্গে পুরোপুরি সংযুক্ত নয়, বা সংযুক্ত থাকলেও তা কার্যকরভাবে ব্যবহার করছে না।
সবশেষে, নিরাপত্তা ও জালিয়াতি রোধের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। আর্থিক জালিয়াতি বেড়ে যাওয়ায় অনেক সংস্থা অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করে, যা আবার কেওয়াইসি প্রক্রিয়াকে জটিল করে তোলে।

 

&t=2s
সব মিলিয়ে বলা যায়, সিকেওয়াইসি একটি শক্তিশালী ধারণা হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এখনও বহু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যতদিন না বিভিন্ন সংস্থা, নিয়ন্ত্রক ও প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলির মধ্যে পূর্ণ সমন্বয় তৈরি হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত ‘একবার কেওয়াইসি, সর্বত্র ব্যবহার’—এই স্বপ্ন বাস্তবে পুরোপুরি সফল হওয়া কঠিনই থেকে যাবে।