আজকাল ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে ভারতে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও কর-সাশ্রয়ী বিনিয়োগ মাধ্যমগুলির মধ্যে অন্যতম হল পিপিএফ। এই স্কিমে বিনিয়োগ করলে সুদ ও ম্যাচিউরিটি—দুটোই করমুক্ত থাকে, পাশাপাশি আয়কর আইনের আওতায় করছাড়ও পাওয়া যায়। বছরে ন্যূনতম ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ১.৫ লক্ষ পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যায়, যা এটিকে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য অপশন করে তুলেছে।
তবে অনেকেই জানেন না পিপিএফ শুধু সঞ্চয়ের মাধ্যম নয়—প্রয়োজনে এটি থেকে ঋণও নেওয়া যায়। অর্থাৎ ম্যাচিউরিটির আগে যদি জরুরি টাকার প্রয়োজন হয়, তাহলে পিপিএফ ব্যালান্সের ওপর ভিত্তি করে সহজেই লোন নেওয়া সম্ভব।
পিপিএফ লোন হল এমন একটি সুবিধা, যেখানে অ্যাকাউন্টধারী তার নিজের জমা টাকার একটি অংশ ঋণ হিসেবে নিতে পারেন। এই সুবিধা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সময়ের জন্য উপলব্ধ। সাধারণত অ্যাকাউন্ট খোলার তৃতীয় আর্থিক বছর থেকে ষষ্ঠ বছরের মধ্যে এই লোন নেওয়া যায়। এটি একটি স্বল্পমেয়াদি ঋণ, যা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শোধ করতে হয়।
পিপিএফ লোন নেওয়ার জন্য অ্যাকাউন্টধারীকে তার ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিস থেকে ফর্ম ডি সংগ্রহ করতে হবে। সেই ফর্ম পূরণ করে জমা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট শাখায়। ফর্মে পিপিএফ অ্যাকাউন্ট নম্বর, চাওয়া ঋণের পরিমাণ, পাসবুকের কপি এবং একটি ঘোষণা জমা দিতে হয়। প্রক্রিয়াটি তুলনামূলকভাবে সহজ এবং দ্রুত সম্পন্ন হয়।
যেসব পিপিএফ অ্যাকাউন্টধারী এখনও প্রিম্যাচিউর উইথড্রয়ের জন্য যোগ্য নন, তারাই এই লোন নিতে পারেন। অর্থাৎ, তৃতীয় থেকে ষষ্ঠ অর্থবর্ষের মধ্যে এই সুবিধা পাওয়া যায়।
পিপিএফ অ্যাকাউন্ট থেকে সর্বোচ্চ ঋণ নেওয়া যায় অ্যাকাউন্টের ব্যালান্সের ২৫% পর্যন্ত। তবে এই ব্যালান্স ধরা হয় ঋণ নেওয়ার বছরের আগের দ্বিতীয় বছরের শেষে যে পরিমাণ অর্থ ছিল, তার ওপর ভিত্তি করে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি ২০২৬-২৭ সালে লোন নেন, তাহলে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের শেষে থাকা ব্যালান্স বিবেচনা করা হবে।
পিপিএফ লোনের অন্যতম বড় সুবিধা হল কম সুদের হার। নির্ধারিত ৩৬ মাসের মধ্যে ঋণ শোধ করলে মাত্র ১% বার্ষিক সুদ দিতে হয়। তবে যদি ৩৬ মাসের বেশি সময় লাগে, তাহলে সুদের হার বেড়ে ৬% হয়ে যায় এবং তা ঋণ নেওয়ার দিন থেকেই প্রযোজ্য হয়। এছাড়া, ঋণ শোধ না হওয়া পর্যন্ত আপনার পিপিএফ জমার ওপর কোনও সুদ পাওয়া যায় না।
ঋণের মূল টাকা ৩৬ মাসের মধ্যে শোধ করতে হবে। এরপর সুদ পরিশোধ করতে হবে এক বা দুটি কিস্তিতে। যদি নির্ধারিত সময়ে সুদ সম্পূর্ণ শোধ না হয়, তাহলে বাকি টাকা সরাসরি আপনার পিপিএফ অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেওয়া হবে।
&t=2s
সব মিলিয়ে, পিপিএফ শুধু দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ নয়, প্রয়োজনে এটি একটি নিরাপদ আর্থিক সহায়তাও দিতে পারে।কম সুদ, সহজ প্রক্রিয়া এবং কোনও ঝুঁকি ছাড়াই এই সুবিধা পাওয়া যায়, যা জরুরি পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় সহায়ক।















