আজকাল ওয়েবডেস্ক: পেঁয়াজ চাষিদের আয় বাড়াতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রের মোদি সরকার। কেন্দ্র সরকার বাফার স্টক কর্মসূচির আওতায় পেঁয়াজ সংগ্রহের ন্যূনতম নিশ্চিত মূল্য প্রতি কেজি ১৫.৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬.৫০ টাকা করেছে। নতুন এই দর ১৩ জুন থেকে কার্যকর হয়েছে।
কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হল বাজারে দামের ওঠানামা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা। যদিও দেশের বৃহত্তম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী রাজ্য মহারাষ্ট্রের কৃষকদের দাবি, বর্তমান উৎপাদন ব্যয়ের নিরিখে সংগ্রহমূল্য কমপক্ষে ৩০ টাকা প্রতি কেজি করা উচিত।
কেন বাড়ানো হল সংগ্রহমূল্য?
কেন্দ্র সরকার প্রতি বছর প্রাইস স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড আওতায় বাফার স্টক তৈরি করে। প্রয়োজনে বাজারে হস্তক্ষেপ করে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণ করাই এর মূল উদ্দেশ্য। চলতি বছরে সরকার ২ লক্ষ টন পেঁয়াজ সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। গত অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল ৩ লক্ষ টন।
কেন্দ্রীয় খাদ্য ও ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে পেঁয়াজ সংগ্রহ আরও জোরদার করা এবং কৃষকদের ভালো দাম নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্তমান মান্ডির দাম এবং দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য পেঁয়াজের গুণগত মান বিবেচনা করে ন্যূনতম নিশ্চিত সংগ্রহমূল্য ১,৬৫০ টাকা প্রতি কুইন্টাল (অর্থাৎ ১৬.৫০ টাকা প্রতি কেজি) নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী বদলানো হয়েছে নীতি
সরকার জানিয়েছে, শুধু দাম বাড়ানোই নয়, সংগ্রহমূল্য নির্ধারণের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন পদ্ধতিতে বাজারের বাস্তব পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে। এর আগে বাজার পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সরকার সংগ্রহমূল্য ১২.৭০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫.৮০ টাকা প্রতি কেজি করেছিল। চলতি মরসুমে পেঁয়াজ সংগ্রহ শুরু হয়েছে ১৫ মে থেকে।
উৎপাদন প্রায় একই, তবুও কৃষকদের অসন্তোষ
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় ৩০৭.৩৭ লক্ষ টন হতে পারে। আগের অর্থবছরে এই উৎপাদন ছিল ৩০৭.৬৭ লক্ষ টন। অর্থাৎ উৎপাদনে বড় কোনও পরিবর্তন না হলেও বাজারদর এবং উৎপাদন খরচ নিয়ে কৃষকদের উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশেষ করে মহারাষ্ট্রের কৃষকদের অভিযোগ, বর্তমানে ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচারাল কো-অপারেটিভ মার্কেটিং ফেডারেশন এবং ন্যাশনাল কো-অপারেটিভ কনজিউমার্স ফেডারেশন যে দরে পেঁয়াজ কিনছে, তা চাষের খরচ মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়।
কৃষকদের দাবি, সার, বীজ, শ্রমিকের মজুরি, সেচ ও পরিবহণ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাই কমপক্ষে ৩,০০০ টাকা প্রতি কুইন্টাল (৩০ টাকা প্রতি কেজি) সংগ্রহমূল্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
মহারাষ্ট্র স্টেট অনিয়ন গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের নাসিক জেলার সভাপতি জয়দীপ ভাদানে বলেন, সরকার কিছু নিয়ম শিথিল করলেও কৃষকদের লোকসান এখনও কমেনি। তাঁর মতে, মূল সমস্যা হল বাজারে পেঁয়াজের দাম এখনও প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রের এই মূল্যবৃদ্ধি কৃষকদের কিছুটা স্বস্তি দিলেও উৎপাদন ব্যয় এবং বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবিষ্যতে আরও বড় সিদ্ধান্তের দাবি জোরালো হতে পারে।















