আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলা যুদ্ধের প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে পারে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। বিশেষ করে আসন্ন গরমের মরশুমে নতুন এয়ার কন্ডিশনার এবং ফ্রিজ কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার ঢেউ এসে পৌঁছাচ্ছে ভোক্তা পণ্যের বাজারেও।
সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই সংঘাতের জেরে বিশ্বের তেলের সরবরাহ বড় ধাক্কা খেয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বে প্রায় ৩০% তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে, ফলে জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়েছে । এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে পরিবহন খরচ, উৎপাদন খরচ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর।
ভারতের মতো আমদানি-নির্ভর দেশের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও তীব্র। তেলের দাম বাড়লে শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত কাঁচামাল—যেমন প্লাস্টিক, কেমিক্যাল, ধাতু—সবকিছুর খরচ বেড়ে যায়। ফলে এসি ও ফ্রিজ তৈরির খরচও বাড়তে শুরু করে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সংস্থা সতর্ক করেছে যে, যুদ্ধজনিত খরচ বৃদ্ধির কারণে ভোক্তা পণ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে ।
এছাড়া, সরবরাহ ক্ষেত্রেও বড়সড় চাপ তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের কারণে শিপিং খরচ বেড়েছে, অনেক রুট পরিবর্তন করতে হচ্ছে, ফলে সময় ও খরচ—দুটোই বাড়ছে। এর ফলে আমদানি করা যন্ত্রাংশ যেমন কম্প্রেসর, সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিক উপাদানের দাম বেড়ে যাচ্ছে। এই সবই AC ও ফ্রিজের চূড়ান্ত দামে যোগ হচ্ছে।
এর পাশাপাশি, ২০২৬ সালের শুরু থেকেই নতুন স্টার রেটিং বজায় রাখতে গিয়ে নির্মাতাদের আরও উন্নত ও ব্যয়বহুল প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হচ্ছে। এর ফলে এসির দাম ইতিমধ্যেই ৭–১০% এবং ফ্রিজের দাম ৩–৫% পর্যন্ত বেড়েছে । এখন যুদ্ধজনিত অতিরিক্ত চাপ যুক্ত হওয়ায় এই দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। কারণ জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে, যা প্রায় সব ধরনের ভোক্তা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেবে। ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল সতর্ক করেছে যে, এই যুদ্ধ বিশ্বের অর্থনীতির ওপর বড় ধাক্কা আনতে পারে ।
সব মিলিয়ে, গরম পড়ার আগে যারা নতুন এসি বা ফ্রিজ কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য সময়টা গুরুত্বপূর্ণ। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই কিনে নেওয়া লাভজনক হতে পারে, কারণ আগামী কয়েক মাসে দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল।
মার্কিন-ইরান যুদ্ধ শুধু রাজনৈতিক সঙ্কট নয়, এটি এখন সরাসরি মানুষের পকেটে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। বাড়ির প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক্স কেনাও হয়ে উঠতে পারে আরও ব্যয়বহুল—যা আগামী দিনে সাধারণ মানুষের বাজেটকে চাপে ফেলবে।














