আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশের বৃহত্তম তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা টিসিএস সম্প্রতি কর্মীদের জন্য বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা করেছিল। শীর্ষ পারফরমারদের জন্য সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ পর্যন্ত ইনক্রিমেন্টের কথা জানানো হয়। কিন্তু বাস্তবে নতুন বেতন কাঠামো সামনে আসতেই কর্মীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে শুরু করেছে। কারণ নতুন ক্ষতিপূরণ কাঠামোতে ‘ওয়ার্ক ফ্রম অফিস’ বা অফিসে উপস্থিতির সঙ্গে সরাসরি বেতনের একটি অংশ যুক্ত করা হয়েছে, যা অনেক কর্মীকেই বিভ্রান্ত করেছে।


সংস্থার সংশোধিত ক্ষতিপূরণ পত্র অনুযায়ী, আগে যে ভ্যারিয়েবল পে পারফরম্যান্স বোনাসের অংশ ছিল, এখন তা ‘পারফরম্যান্স পে’ নামে নতুন বিভাগে স্থানান্তরিত হয়েছে। এই অংশের টাকা নির্ভর করবে কর্মীর অফিসে উপস্থিতি, ‘ওয়ার্ক ফ্রম অফিস ইনডেক্স’ এবং ‘ডিপ্লয়মেন্ট ইনডেক্স’ -এর মতো সূচকের ওপর। অর্থাৎ কর্মী কতদিন অফিসে উপস্থিত থাকছেন এবং সংস্থার প্রকল্পে কতটা সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন, তার ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে এই অতিরিক্ত অর্থ।


এক কর্মীর ক্ষতিপূরণ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বছরে সর্বাধিক ৬৪,৮০০ টাকা পর্যন্ত ‘পারফরম্যান্স পে’ পাওয়া যেতে পারে। তবে তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সংস্থার বিভিন্ন নির্দেশিকা এবং অফিসে উপস্থিতির ওপর। ফলে কর্মীরা মনে করছেন, ঘোষিত বেতন বৃদ্ধি বাস্তবে হাতে পাওয়া আয়ের ক্ষেত্রে খুব একটা বড় পার্থক্য আনছে না।


এদিকে আগে যে পারফরম্যান্স বোনাস প্রতি ত্রৈমাসিকে দেওয়া হত, এখন তা বার্ষিক ভিত্তিতে দেওয়া হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। যদিও এই বোনাস আর সরাসরি অফিসে উপস্থিতির সঙ্গে যুক্ত নয়। তবুও সংস্থা স্পষ্ট করেছে, কর্মীর দক্ষতা বৃদ্ধি, সংস্থার নীতি মেনে চলা, ইউনিটের পারফরম্যান্স এবং কোম্পানির সামগ্রিক ফলাফলের মতো একাধিক বিষয়ের ওপর এই বোনাস নির্ভর করবে।


গত মাসে সংস্থার ম্যানেজমেন্ট জানিয়েছিল, ১ এপ্রিল থেকে যোগ্য কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি কার্যকর হবে এবং শীর্ষ পারফরমাররা দ্বিগুণ অঙ্কের ইনক্রিমেন্টও পেতে পারেন। কিন্তু বাস্তবে বহু কর্মী জানিয়েছেন, তাঁদের ইনক্রিমেন্ট ৬ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। এমনকি কম রেটিং পাওয়া কিছু কর্মীর বেতনে কাটছাঁটও হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।


কর্মীদের আরও অভিযোগ, নতুন বেতন কাঠামোয় গ্র্যাচুইটির অর্থ মোট স্যালারি প্যাকেজের মধ্যেই ধরা হয়েছে, ফলে প্রকৃত বেতন বৃদ্ধির পরিমাণ কমে গিয়েছে। পাশাপাশি আগে যে বাড়িভাড়া ভাতা, মিল কুপন, জ্বালানি ও ভ্রমণ ভাতার মতো সুবিধা ছিল, তার বেশ কিছু অংশ বাদ দেওয়া হয়েছে বা নতুনভাবে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এখন ‘HRA এবং Conveyance Allowance’ নামে নতুন বিভাগ যুক্ত হয়েছে, তবে কীভাবে এই পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে তা নিয়ে কর্মীদের মধ্যে স্পষ্ট ধারণা নেই।


এই পরিস্থিতি এমন সময় তৈরি হয়েছে, যখন তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পে অটোমেশন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে আইটি পরিষেবা সংস্থাগুলির কাজের ধরন বদলাচ্ছে এবং আয়েও চাপ পড়ছে। গত আর্থিক বছরে টিসিএস-র আয় ০.৫ শতাংশ কমেছে, যা সংস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।