আজকাল ওয়েবডেস্ক: টানা তিন দিনের উত্থানের পর বুধবার ধাক্কা খেল ভারতীয় শেয়ার বাজার। প্রধান সূচক সেনসেক্স এবং নিফটি দিনের লেনদেন চলাকালীন বড়সড় পতনের মুখে পড়ে। সেনসেক্স ৮০০ পয়েন্টের বেশি বা প্রায় ১% নেমে ৭৮,৪৪২-এর ইনট্রাডে নিম্নস্তরে পৌঁছায়। একই সময়ে নিফটি ৫০-ও ২০০ পয়েন্টের বেশি পড়ে ২৪,৩৫৩-এর কাছাকাছি নেমে আসে।
কেন পড়ল বাজার? মূল কারণগুলো এক নজরে—
১. ব্যাঙ্ক ও আইটি শেয়ারে প্রফিট বুকিং
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক উত্থানের পর বিনিয়োগকারীরা ব্যাঙ্কিং ও আইটি খাতে মুনাফা তুলতে শুরু করেছেন। নিফটি ব্যাঙ্ক সূচক গত তিন দিনে ২.৩% বাড়ার পর এদিন অর্ধ শতাংশের বেশি পড়ে যায়। অন্যদিকে, দুর্বল চতুর্থ ত্রৈমাসিক ফলাফল এবং সতর্ক ভবিষ্যৎ মন্তব্যের কারণে নিফটি আইটি সূচক প্রায় ৪% পর্যন্ত ধস নামে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গত তিনটি সেশনে সেনসেক্স প্রায় ১,২৮৫ পয়েন্ট (১.৬%) এবং নিফটি ৫০ প্রায় ৩৮০ পয়েন্ট (১.৬%) বেড়েছিল। ফলে এই পতনকে অনেকেই স্বাভাবিক ‘কনসোলিডেশন’ হিসেবেই দেখছেন।
২. মার্কিন-ইরান উত্তেজনা নিয়ে অনিশ্চয়তা
যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা করেছেন, তবুও ভবিষ্যৎ শান্তি আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। দুই দেশের মধ্যে কবে এবং কীভাবে আলোচনা শুরু হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই অনিশ্চয়তা বিশ্ববাজারের মতো ভারতীয় বাজারেও প্রভাব ফেলছে।
৩. দুর্বল সংকেত
এশিয়ার বড় বাজার যেমন জাপানের নিক্কেই ও দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক সামান্য লাভে লেনদেন করলেও সামগ্রিকভাবে বিশ্ববাজারে চাপ রয়েছে। ওয়াল স্ট্রিটে পতনের পর বিনিয়োগকারীদের মনোভাব কিছুটা সতর্ক হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং বাড়তে থাকা ট্রেজারি ইয়িল্ড উদীয়মান বাজারগুলির উপর চাপ সৃষ্টি করছে।
৪. অপরিশোধিত তেলের দাম নিয়ে উদ্বেগ
ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কিছুটা কমলেও তা এখনও ব্যারেল প্রতি ৯৫ ডলারের উপরে রয়েছে। উচ্চ তেলের দাম ভারতের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ, যা মুদ্রাস্ফীতি ও বাণিজ্য ঘাটতির উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, টানা উত্থানের পর এই পতন বাজারে সতর্কতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে মিড ও স্মলক্যাপ সেগমেন্টের স্থিতিশীলতা দেখাচ্ছে যে বিনিয়োগকারীরা পুরোপুরি আস্থা হারাননি। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে কর্পোরেট ফলাফল এবং বিশ্বের পরিস্থিতির উপরই বাজারের দিক নির্ধারণ করবে।















