আজকাল ওয়েবডেস্ক: চাকরি বদল এখন আর ব্যতিক্রম নয়। আধুনিক কাজের জীবনে এটি খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু কর্মী যখন পদত্যাগ করেন, তখন একটি প্রশ্ন বারবার ফিরে আসে। পুরনো চাকরির পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড বা ভবিষ্যনিধির কী হয়? অনেকেই ধরে নেন যে বেতন জমা বন্ধ হওয়ার পর পিএফ সুদ জমা থেমে যায়। বাস্তবতা হল, নিয়ম মেনে চললে এই ধারণা পুরোপুরি ভুল।
বছরের পর বছর ধরে কর্মজীবীদের মধ্যে একটি বিশ্বাস তৈরি হয়েছে যে তিন বছর নিষ্ক্রিয় থাকলে ইপিএফে সুদ জমা বন্ধ হয়ে যায়। এই ভুল ধারণার কারণে অনেকেই দ্রুত এই টাকা তুলে নেন। ফলে দীর্ঘমেয়াদী চক্রবৃদ্ধি সুদের সুবিধা ও ট্যাক্স ছাড় হারিয়ে ফেলেন।
আসলে এই বিশ্বাস এসেছে পুরনো ব্যাখ্যা থেকে, আইন থেকে নয়। সেই হিসেব অনুসারে পিএফে সুদ মাসিক ব্যালেন্সের ওপর গণনা হয় এবং বছরে একবার অ্যাকাউন্টে ক্রেডিট করা হয়। অর্থাৎ চাকরি বদলালেও অ্যাকাউন্ট সক্রিয় ও নিয়মসঙ্গত থাকলে সুদ জমা বন্ধ হয় না।
তিন বছরের নিয়মটি মূলত পুরনো ব্যাখ্যার ফল। পুরনো গাইডলাইন বলেছিল যে ৩ বছর নিষ্ক্রিয় থাকলে সুদ বন্ধ হতে পারে। কিন্তু ২০১৬ সালের সংশোধনের পর সরকার স্পষ্ট করেছে—
অ্যাকাউন্ট ৫৮ বছর বয়সে নিষ্ক্রিয় ধরা হবে।
সুদ বন্ধ হবে ৫৮ বছর বয়সের পর
অর্থাৎ অবসর বয়স না হওয়া পর্যন্ত, আপনি চাকরির মাঝে থাকুন বা বেকার, PF-এ সুদ জমা অব্যাহত থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুদ বন্ধ না হলেও পিএফে সবচেয়ে বড় ক্ষতি আসে অবহেলা থেকে। অনেকেই নতুন চাকরিতে যোগ দিয়ে PF ব্যালেন্স ট্রান্সফার করতে ভুলে যান।
চাকরি ছাড়া মানেই পিএফের সুদ বন্ধ এই ধারণাটি ভুল। পিএফ আপনার বয়স, সদস্যপদ এবং ইউএএনের উপর নির্ভর করে বাড়তে থাকে। তাই আপনার পিএফ নীরবে, ধীরে এবং স্থিরভাবে আপনার ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে যতক্ষণ আপনি নিয়ম মেনে চলেন।
&t=1478s
তাই আগে থেকে এবিষয়ে চিন্তা না করে আপনি নতুন চাকরির সঙ্গেই নিজের পিএফ-কে যুক্ত করতে পারেন। সেখানে ফের আপনার অ্যাকাউন্ট সক্রিয় হয়ে যাবে। এখানে সুদের খুব একটা হেরফের হবে না। তবে যদি আপনি দ্রুত নিজের টাকা তুলে নিতে চান তাহলে সেখানে সবথেকে বেশি ক্ষতি আপনার হবে। সেখানে সঠিক নিয়মটি জানা থাকলেই আপনার পক্ষে তাকে ব্যবহার করা সহজ হবে।
