আজকাল ওয়েবডেস্ক:  ভারতে চাকরিজীবীদের অবসরকালীন সঞ্চয়ের অন্যতম প্রধান ভরসা হল ইপিএফ। অনেক কর্মী আবার অতিরিক্ত সঞ্চয়ের জন্য ভলান্টারি প্রভিডেন্ট ফান্ডেও বিনিয়োগ করেন, কারণ এতে স্থিতিশীল রিটার্ন ও কর ছাড়ের সুবিধা রয়েছে। সম্প্রতি ইপিএফ চলতি অর্থবছরের জন্য সুদের হার ৮.২৫ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ঘোষণার পর অনেক বিনিয়োগকারী ভাবছেন— অতিরিক্ত সঞ্চয় কি ভিপিএফে রাখবেন, নাকি এসআইপি-র মতো বাজারভিত্তিক বিনিয়োগে দেবেন?


বিশেষজ্ঞ কী বলছেন
আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে একজন বিনিয়োগকারীর ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা এবং আর্থিক পরিকল্পনার ওপর। বর্তমানে বেশিরভাগ সেভিংস অ্যাকাউন্টে সুদের হার প্রায় ৩ শতাংশ, আর ফিক্সড ডিপোজিটে সাধারণত ৬-৭ শতাংশ। সেই তুলনায় ইপিএফ এবং ভিপিএফে ৮.২৫ শতাংশ সুদ যথেষ্ট আকর্ষণীয়।


কেন ভিপিএফ এখনও জনপ্রিয়?
ভিপিএফের অন্যতম বড় সুবিধা হল এটি ইপিএফের মতোই একই সুদের হার দেয় এবং অবসর সঞ্চয়ের অংশ হিসেবেই থাকে। পেশাদারের জন্য এটি একটি সহজ উপায়— যেখানে বাজারের ঝুঁকি ছাড়াই অবসর তহবিল বাড়ানো যায়।


বর্তমান বিশ্বের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময় অনেক বিনিয়োগকারী নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন। সেই দিক থেকে ইপিএফ এবং ভিপিএফের মতো সরকার-নিয়ন্ত্রিত স্কিমে স্থিতিশীলতা থাকায় অনেকের আস্থা বাড়ছে।


স্থিতিশীল রিটার্নের কারণে বাড়ছে আস্থা
বাজারভিত্তিক বিনিয়োগে যেমন শেয়ার বা মিউচুয়াল ফান্ডে ওঠানামা থাকে, ইপিএফ  কাঠামো সাধারণত দীর্ঘ সময় ধরে স্থিতিশীল থাকে। চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে অনেক সময় নির্দিষ্ট ও স্থির রিটার্ন স্বল্পমেয়াদি লাভের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।


ভিপিএফ নিরাপদ বিনিয়োগ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, চাকরিজীবীদের জন্য ভিপিএফ এখনও সবচেয়ে নিরাপদ ও কর-সাশ্রয়ী বিনিয়োগগুলির মধ্যে একটি। যেহেতু এটি ইপিএফ ব্যবস্থার অংশ, তাই এটি একটি নিয়ন্ত্রিত ও নিরাপদ কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হয়। নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ভিপিএফ সুদ করমুক্ত থাকে এবং অবসর নেওয়ার পরে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে উত্তোলনও করমুক্ত হয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে এটি বেশ জনপ্রিয়।


তাহলে এসআইপি নাকি ভিপিএফ?
এসআইপি দীর্ঘমেয়াদে বেশি রিটার্ন দিতে পারে, কারণ এটি শেয়ারবাজারের সঙ্গে যুক্ত। তবে এতে ঝুঁকিও বেশি। অন্যদিকে ভিপিএফ তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকির এবং স্থিতিশীল রিটার্ন দেয়।
আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, একটিকে বাদ দিয়ে আরেকটি বেছে নেওয়ার বদলে এসআইপি ও ভিপিএফের সুষম সমন্বয় করা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে। এতে যেমন দীর্ঘমেয়াদে বৃদ্ধির সুযোগ থাকবে, তেমনই সঞ্চয়ের একটি নিরাপদ ভিত্তিও তৈরি হবে।

 


অর্থাৎ, যারা ঝুঁকি কম নিতে চান তারা ভিপিএফে বেশি বিনিয়োগ করতে পারেন। আর যারা দীর্ঘমেয়াদে বেশি রিটার্নের লক্ষ্য রাখছেন, তারা এসআইপি-র দিকে ঝুঁকতে পারেন। সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখলেই গড়ে উঠতে পারে শক্তিশালী অবসর তহবিল। তবে যেখানেই বিনিয়োগ করবেন তার আগে সমস্ত তথ্য দেখে নিতে ভুলবেন না।