আজকাল ওয়েবডেস্ক: একসময় নিয়ন্ত্রণের চাপ, ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা এবং বাজারে আস্থার সংকটের মুখে পড়েছিল পেটিএম। কিন্তু এখন ছবিটা অনেকটাই বদলে গেছে। দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট বাজারে আবারও শক্তিশালী প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিল এই সংস্থাটি। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের চতুর্থ ত্রৈমাসিকের ফলাফলে দেখা গিয়েছে, পেটিএম-র ইউপিআই লেনদেনের বৃদ্ধি গোটা শিল্পের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি গতিতে এগোচ্ছে।


সংস্থার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মার্চ ত্রৈমাসিকে পেটিএম-র কনজিউমার ইউপিআই গ্রস ট্রানজ্যাকশন ভ্যালু বছরে ৪৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫.৫ লক্ষ কোটিতে পৌঁছেছে। একই সময়ে গোটা ইউপিআই শিল্পের গড় বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ২১ শতাংশ। অর্থাৎ, শিল্পের তুলনায় প্রায় ২.২ গুণ দ্রুত হারে বেড়েছে পেটিএম-র লেনদেন।


বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রত্যাবর্তনের পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, সংস্থাটি গত কয়েক মাসে নিজেদের প্রযুক্তি ও পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করেছে। ব্যবহারকারীদের জন্য দ্রুত ও সহজ পেমেন্ট পরিষেবা, উন্নত অ্যাপ অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন অফার গ্রাহকদের আবার পেটিএম-র দিকে টেনে আনছে।


এছাড়া ছোট ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের মধ্যে পেটিএম-র গ্রহণযোগ্যতা এখনও বেশি। কিউআর কোড ভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থায় সংস্থার উপস্থিতি দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে রয়েছে। ফলে দৈনন্দিন লেনদেনে বহু মানুষ এখনও পেটিএম ব্যবহার করতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন।


বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, ডিজিটাল পেমেন্টের অভ্যাস এখন ভারতের সাধারণ মানুষের জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। চা দোকান থেকে বড় শপিং মল—সব জায়গাতেই ইউপিআই পেমেন্ট এখন স্বাভাবিক ব্যাপার। এই দ্রুত বাড়তে থাকা ডিজিটাল অর্থনীতির সুযোগকে কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছে পেটিএম। 


সংস্থার পুনরুদ্ধারের আরেকটি বড় কারণ হল গ্রাহকদের আস্থা ফেরানোর চেষ্টা। অতীতে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সমস্যার কারণে উদ্বেগ তৈরি হলেও এখন সংস্থা ব্যবসার স্বচ্ছতা ও পরিষেবার স্থায়িত্বের উপর বেশি জোর দিচ্ছে। ফলে ধীরে ধীরে বিনিয়োগকারী এবং গ্রাহকদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে।


এদিকে ভারতের ইউপিআই ইকোসিস্টেমও দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। ছোট শহর ও গ্রামীণ এলাকায় স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের বৃদ্ধি ডিজিটাল পেমেন্টকে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে। এই বাজার সম্প্রসারণের বড় সুবিধা পাচ্ছে পেটিএম-র মতো সংস্থাগুলি।


বিশ্লেষকদের মতে, সামনে প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে, কারণ ফোন পে, গুগল পে এবং অন্যান্য ফিনটেক সংস্থাও বাজার দখলের লড়াইয়ে রয়েছে। তবুও সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে পেটিএম আবারও নিজেদের অবস্থান শক্ত করার পথে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে।

 


সব মিলিয়ে বলা যায় ডিজিটাল পেমেন্টের দ্রুত বিস্তার এবং ব্যবহারকারীদের নতুন আস্থাই বর্তমানে পেটিএম-র প্রত্যাবর্তনের মূল শক্তি হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।