আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশে খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার বা রিটেল ইনফ্লেশন এপ্রিল মাসে বেড়ে দাঁড়াল ৩.৪৮ শতাংশ। মঙ্গলবার পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি রূপায়ণ মন্ত্রকের প্রকাশিত প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, খাদ্যপণ্য, পানীয়, পোশাক, বাসস্থান এবং বিভিন্ন পরিষেবার খরচ বৃদ্ধির কারণেই মূল্যবৃদ্ধির হার উপরের দিকে উঠেছে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে জ্বালানির দাম বাড়তে শুরু করায় তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতের বাজারে।


গত কয়েক মাস ধরে যে ‘বেস এফেক্ট’-এর কারণে মূল্যবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে ছিল, তার প্রভাব এখন কমতে শুরু করেছে। ফলে এপ্রিল মাসে মুদ্রাস্ফীতি ১৩ মাসের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে মূল্যবৃদ্ধির হার ১০ মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়েছিল।


অর্থনীতিবিদদের অনেকেই আগেই আশঙ্কা করেছিলেন যে এপ্রিলে মূল্যবৃদ্ধি আরও বাড়তে পারে। একটি সমীক্ষায় ২০ জন অর্থনীতিবিদের গড় অনুমান ছিল, এপ্রিল মাসে খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হার প্রায় ৩.৮ শতাংশ হতে পারে। সেই তুলনায় প্রকৃত হার কিছুটা কম হলেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা উদ্বেগ বাড়িয়েছে।


সরকারি তথ্য অনুযায়ী, খাবার ও পানীয়ের দাম বৃদ্ধিই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। শাকসবজি, দুধ, রান্নার তেল এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ, রান্নার গ্যাস ও জ্বালানির খরচ বাড়ায় পরিবহণ ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। তার প্রভাব পড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উপর।


বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারতের আমদানি খরচ বেড়েছে। ভারত যেহেতু তেলের বড় আমদানিকারক দেশ, তাই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লেই তার প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে পড়ে।


তবে এখনও মূল্যবৃদ্ধির হার ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নির্ধারিত সহনীয় সীমার মধ্যেই রয়েছে। আরবিআই সাধারণত ৪ শতাংশের আশেপাশে মূল্যবৃদ্ধি ধরে রাখতে চায়, যদিও ২ শতাংশ পর্যন্ত ওঠানামা গ্রহণযোগ্য বলে ধরা হয়। কিন্তু মূল্যবৃদ্ধির এই ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি আগামী দিনে সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।


এদিকে চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে নতুন ভিত্তিবর্ষ ২০২৪ ধরে সিপিআই সূচকের নতুন সিরিজ চালু হয়েছে। সেই কারণে আগের বছরের তথ্যের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা সম্ভব নয়। নতুন সিরিজ অনুযায়ী, জানুয়ারিতে মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল সংশোধিত ২.৭৪ শতাংশ। এরপর ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে ৩.২১ শতাংশ এবং মার্চে ৩.৪ শতাংশে পৌঁছয়। এপ্রিল মাসে তা আরও বেড়ে ৩.৪৮ শতাংশ হয়েছে।

 


বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক মাসে বর্ষার পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক তেলের দাম এবং বিশ্ব অর্থনীতির অবস্থার উপর দেশের মূল্যবৃদ্ধির ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ যাতে আরও না বাড়ে, সেদিকেই এখন নজর কেন্দ্রীয় সরকারের।