আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশজুড়ে জরুরি সতর্কতা বার্তা পাঠানোর জন্য তৈরি হওয়া সেল ব্রডকাস্ট সিস্টেমকে ঘিরে শুরু হয়েছে বড় আইনি লড়াই। জার্মান প্রযুক্তি সংস্থা ইউটিমাকো টেকনোলজিস কেন্দ্রের সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছে, যেখানে কোনও উন্মুক্ত টেন্ডার ছাড়াই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা সেন্টার ফর ডেভলপমেন্ট অফ টেলিম্যাটিসকে একমাত্র সংস্থা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
এই মামলায় দিল্লি হাইকোর্টের দিকে সকলে তাকিয়ে। আদালতের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে কেন্দ্র সরকার শুধুমাত্র সি ডটের মাধ্যমেই এই জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করতে পারবে কি না, নাকি প্রকল্পটি প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে করতে হবে। ৫ মে দেওয়া এক নির্দেশে আদালত উভয় পক্ষকে এক সপ্তাহের মধ্যে তিন পাতার সংক্ষিপ্ত লিখিত যুক্তি জমা দিতে বলেছে। যদিও নির্দেশটি প্রকাশ্যে আসে ৮ মে।
এই মামলাটি ২০২৪ সাল থেকেই আদালতে বিচারাধীন। সম্প্রতি কেন্দ্র সরকার সি ডটের সহযোগিতায় দেশজুড়ে বহু ভাষার সেল ব্রডকাস্ট সিস্টেমের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু করায় বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পায়।
সেল ব্রডকাস্ট প্রযুক্তি মূলত প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জরুরি পরিস্থিতিতে সতর্কবার্তা পাঠানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। সাধারণ এসএমএসের মতো একে একে বার্তা না পাঠিয়ে, এটি মোবাইল টাওয়ারের মাধ্যমে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে নির্দিষ্ট এলাকার সমস্ত মোবাইলে একসঙ্গে সতর্কবার্তা পৌঁছে দিতে পারে।
শুনানিতে কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এই প্রকল্প দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও জনস্বার্থের সঙ্গে যুক্ত একটি কৌশলগত সম্পদ। তাই এটি বেসরকারি সংস্থার হাতে না দিয়ে দেশীয় সরকারি সংস্থার মাধ্যমেই তৈরি করা প্রয়োজন ছিল।
সরকার আরও জানায়, সি ডটকে একমাত্র সংস্থা করার প্রস্তাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুমোদন রয়েছে। তবে বিচারপতি শচিন দত্ত সরকারের কাছে জানতে চান, কোথায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে প্রকল্পটি “কৌশলগত জাতীয় সম্পদ” এবং সেই কারণেই এটি শুধুমাত্র সরকারি সংস্থার মাধ্যমে করা প্রয়োজন। আদালত প্রশ্ন তোলে, এই যুক্তি আদৌ অনুমোদন প্রক্রিয়ার অংশ ছিল কি না।
অন্যদিকে ইউটিম্যাকো পক্ষের আইনজীবী অমিত সিব্বল অভিযোগ করেন, সরকারি নথিতে কোথাও ব্যাখ্যা করা হয়নি কেন শুধুমাত্র সি ডটকে বেছে নেওয়া হল। তাঁর দাবি, এটি স্বেচ্ছাচারী, বৈষম্যমূলক এবং পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত।
যদিও সরকারের বক্তব্য, এটি নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং সমস্ত নিয়ম যথাযথভাবেই মানা হয়েছে। এখন আদালতের রায়ের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে প্রযুক্তি ও টেলিকম মহল।















