আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের আর্থিক ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় চ্যালেঞ্জ হল সাধারণ মানুষের দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়কে নিরাপদ, স্বচ্ছ ও টেকসই পথে পরিচালিত করা। এই প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক সময়ে প্রস্তাবিত নতুন ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম মডেল একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। কাঠামোগত সংস্কার, ঝুঁকি এবং বিনিয়োগকারীর স্বার্থরক্ষায় এই মডেল যে দৃষ্টিভঙ্গি দেখিয়েছে, তা অন্যান্য আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলির জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে।


নতুন এনপিএস মডেলের সবচেয়ে বড় শক্তি হল এর দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি। এখানে স্বল্পমেয়াদি বাজার ওঠানামার বদলে অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তাকে মূল লক্ষ্য হিসেবে ধরা হয়েছে। বিনিয়োগের সময়সীমা দীর্ঘ হওয়ায় ঝুঁকি ধীরে ধীরে কমানোর একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ রাখা হয়েছে, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। এই ‘লাইফ-সাইকেল’ ভিত্তিক বিনিয়োগ পদ্ধতি অন্য সঞ্চয় ও বিনিয়োগ প্রকল্পেও প্রয়োগ করা যেতে পারে।


দ্বিতীয়ত, নতুন এনপিএস মডেলে খরচের স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক ও ফান্ড ম্যানেজমেন্ট খরচ কম রাখার ফলে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগকারীর প্রকৃত রিটার্ন বাড়ে। ভারতের মিউচুয়াল ফান্ড, বিমা কিংবা অন্যান্য অবসরভিত্তিক প্রকল্পেও যদি এই ধরনের কম খরচের কাঠামো বাধ্যতামূলক করা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়তে পারে।


তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ঝুঁকি বৈচিত্র্যকরণ। নতুন এনপিএস মডেলে ইকুইটি, সরকারি বন্ড, কর্পোরেট ঋণ এবং বিকল্প সম্পদের মধ্যে সুষম বণ্টনের ব্যবস্থা রয়েছে। এর ফলে একটি নির্দিষ্ট সম্পদ শ্রেণির ধাক্কায় পুরো পোর্টফোলিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে। এই ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি পেনশন, বিমা ও দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় প্রকল্পে আর্থিক স্থিতিশীলতা বাড়াতে পারে।


আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হল নিয়ন্ত্রক নজরদারি ও জবাবদিহি। নতুন এনপিএস কাঠামোতে ফান্ড ম্যানেজারদের পারফরম্যান্স নিয়মিত পর্যালোচনা এবং কঠোর প্রকাশ্য তথ্য দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীরা সহজেই বুঝতে পারেন তাঁদের টাকা কোথায় ও কীভাবে বিনিয়োগ হচ্ছে। এই ধরনের শক্তিশালী প্রকাশ ও নজরদারি ব্যবস্থা আর্থিক খাতের অন্যান্য অংশেও প্রয়োগ করা জরুরি।

&t=136s


সবশেষে বলা যায়, নতুন এনপিএস মডেল শুধু একটি পেনশন সংস্কার নয়, বরং ভারতের আর্থিক ব্যবস্থার জন্য একটি নীতিগত দিকনির্দেশ। যদি অন্যান্য আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা—সেবি, আইআরডিএআই বা পিএফআরডিএ—এই মডেলের মূল নীতিগুলি গ্রহণ করে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগকারীর সুরক্ষা, বাজারের স্থিতিশীলতা এবং দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরও শক্তিশালী হতে পারে।