ইরান-ইজরায়েল হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান পরিকল্পিতভাবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিকে লক্ষ্য করছে৷ সংযুক্ত আরব আমিরশাহির অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু দুবাই। ইরানি হামলায় দুবাইয়ের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং এর ঐতিহাসিক বুর্জ আল আরব হোটেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
2
15
শনিবার, ইরানি অস্ত্রে দুবাইয়ের একটি পাঁচতারা রিসর্টে আগুন লেগে যায়, যা বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন বুর্জ খলিফার নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে. কিন্তু কেন হঠাৎ দুবাই আর বুর্জ খলিফাকে হামলার লক্ষ্য করা হল? কী এমন আছে বুর্জ খলিফায়?
3
15
বুর্জ খলিফা, বিশ্বের সর্বোচ্চ বহুতল। ২০১০ সালে বুর্জ খলিফার উদ্বোধন হয়েছিল৷ তার পর থেকে এই বিলাসবহুল বহুতল নিয়ে আলোচনা চলছে। আরব আমিরশাহির বিলাসবহুল জীবনযাত্রা এবং আর্থিক ক্ষমতা আর মানোন্নয়নের সূচক বুর্জ খলিফা৷
4
15
বিলাসবহুল এই বহুতল দেখতে আসেন বহু পর্যটক৷ আরব আমিরশাহির সাধারণ মানুষের কাছেও এই বহুতল এক বিস্ময়৷ দুবাইয়ের মতো শহরে আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু এই বুর্জ খলিফা৷
5
15
হঠাৎ কেন বুর্জ খলিফা বানানো হল? দুবাইয়ের মতো বিলাসবহুল এবং বাণিজ্যিক শহরে বুর্জ খলিফার মতো বহুতল বানানোর নেপথ্যে প্রধান কারণ ছিল আর্থিক উন্নতি৷ এই সুউচ্চ বিলাসবহুল বহুতল পর্যটনের দিক থেকে মানুষকে আকর্ষণ করবে। পর্যটকেরা এই বহুতলে থাকলে আর্থিক দিক থেকে উন্নতি হবে দুবাইয়ের৷ অন্যদিকে বুর্জ খলিফাকে কেন্দ্র করে ছোট বড় নানা ব্যবসা বাণিজ্য গড়ে উঠবে৷ বিনিয়োগাকারীদের কাছেও বুর্জ খলিফা দুবাইয়ের শ্রেষ্ঠ আকর্ষণ৷
6
15
বুর্জ খলিফার বিলাসবহুল আবাসন বাসস্থান হিসাবে ব্যবহার করার মাধ্যমে প্রচুর আর্থিক মুনাফা করা যায়৷ পর্যটকদের জন্য রয়েছে বুর্জ খলিফায় বিলাবহুল রেস্তরাঁ। রেস্তরাঁয় থাকা-খাওয়া-আমোদের বিলাসিতা রয়েছে৷ পর্যটনের দিক থেকেও বুর্জ খলিফা অর্থনৈতিক ভাবে সমৃদ্ধ করছে দুবাইকে৷ এছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন বড় বড় সংস্থা দুবাইতে অফিস হিসাবে বুর্জ খলিফাকে বেছে নিয়েছেন৷ অফিসের ভাড়া বাবদ বিশাল অর্থের লেনদেন হয় দুবাইতে৷
7
15
দুবাইতে তেলের ব্যবসার কথা প্রায় সকলেই জানে৷ তেল থেকে প্রাপ্ত অর্থই ছিল দুবাইয়ের অর্থনীতির মূল ভিত্তি৷ কিন্তু তেলের পাশাপাশি এমন এক বহুতল নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল যা বহুমুখী অর্থোপার্জনের রাস্তা খুলে দেবে৷ এক বহুতল চুম্বকের মতো টাকাকে টেনে আনবে বিভিন্ন দিক থেকে৷ সেই ভাবনার ফলশ্রুতিই আজকের বুর্জ খলিফা৷
8
15
ব্যবসায়িক বহুতল কেমন হওয়া উচিত তার একটা রূপরেখা তৈরি করে দিয়েছে দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা৷ তবে শুধু আর্থিক দিক থেকেই নয়, স্বাপত্যশিল্পের দিক থেকেও বুর্জ খলিফা বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণ।
9
15
বুর্জ খলিফার নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০০৪ সালে৷ প্রধান architect ছিলেন অ্যাড্রিয়ান স্মিথ৷ তাঁর ভাবনার প্রত্যক্ষ ছাপ রয়েছে বিশ্বের সুউচ্চ বহুতলের নির্মাণে৷ হাওয়ার গতিবেগ, তাপমাত্রা, কাঁচামালের গুণমান ইত্যাদি বিভিন্ন দিক থেকে বহু বিচার বিশ্লেষণ করে যে বহুতল নির্মাণ হল তা স্থাপত্যশিল্পের ইতিহাসেও নতুন নজির সৃষ্টি করল।বিল বেকারের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি বুর্জ খলিফার ভিত আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করেছিল৷
10
15
পাঁচ বছর ধরে বুর্জ খলিফা নির্মাণ করা হয়েছিল। এই নির্মাণকার্যের প্রধান আকর্ষণ ছিল বহুতলের বাইরের দিকে কাঁচের প্যানেল বসানো৷ এই কাঁচের প্যানেল বহুতলের সৌন্দর্যবৃদ্ধি করেছিল সেই সঙ্গে অন্যান্য বহতলের নকশার থেকেও আলাদা করেছিল।
11
15
প্রায় ২৬ হাজার কাচের প্যানেল লাগানো হয়েছিল। প্রত্যেকটি কাচের প্যানেলের ওজন প্রায় ৩৬২ কেজি৷ অট্টলিকার সামনের দিকে অ্যালুমিনিয়ামের এবং কাচের ব্যবহারের জন্য বুর্জ খলিফা বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল৷
12
15
প্রতিদিন ৯ লক্ষ ৪৬ হাজার লিটার জল সরবরাহ করা হয় বুর্জ খলিফাতে৷ ৫৭ টি লিফট রয়েছে৷ লিফটের ধারণক্ষমতা ৫০০০ কেজি। বুর্জ খলিফায় আছে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচুতে পরিষেবা দেওয়া লিফট৷ এছাড়া আছে ৮ টি এসকেলেটর৷ সিঁড়িতে রয়েছে বিশেষ অগ্নিনির্বাপণ কংক্রিট৷
13
15
সূত্রের খবর, বুর্জ খলিফা বানাতে ১.৪ বিলিয়ন ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার ৯০৪ কোটির বেশি টাকা খরচ হয়েছে৷ সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এবং আবুধাবির আমির খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সম্মানে এই বহুতলের নামকরণ করা হয়৷
14
15
বুর্জ খলিফা শুধুমাত্র পর্যটকদের প্রবেশমূল্য থেকে বছরে ৬২১ মিলিয়ন ডলার অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় ৫৭১ কোটির বেশি অর্থোপার্জন করে৷ বুর্জ খলিফার তিনতলা থেকে দুবাই শহরের ৩৬০ ডিগ্রি দৃশ্য দেখা যায়৷ সম্পূর্ণ বুর্জ খলিফায় আছে ১৫৪ টি তলা। এই বহুতলে স্পা, জিম, সুইমিং পুল সমস্ত কিছুই রয়েছে৷
15
15
বুর্জ খলিফাকে আক্রমণ করলে দুবাই তথা আরব আমিরশাহির অর্থনীতিকে সয়ারসরি আঘাত করা হবে৷ বিশ্বের অন্যমত আকর্ষণ বুর্জ খলিফা ধ্বংস করতে পারা ইরানের কাছে ক্ষমতা এবং শক্তির প্রদর্শন।