আজকাল ওয়েবডেস্ক: সাম্প্রতিক সময়ে সোনার দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ ও দ্বিধা—দু’টিই তৈরি করেছে। বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক উত্তেজনা, মুদ্রাস্ফীতি এবং সুদের হারের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চিত অবস্থান সব মিলিয়ে সোনাকে আবারও নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে তুলে ধরছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, এই উচ্চ দামের সময়ে বিনিয়োগকারীদের কি নতুন করে সোনায় বিনিয়োগ করা উচিত, নাকি সতর্ক হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ?
ঐতিহাসিকভাবে দেখা গেছে, অর্থনৈতিক অস্থিরতার সময় সোনা বরাবরই শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। শেয়ারবাজারে অস্থিরতা বাড়লে বা মুদ্রার মান কমার আশঙ্কা তৈরি হলে বিনিয়োগকারীরা সোনার দিকে ঝুঁকেছেন। বর্তমানে বিশ্বের মুদ্রাস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলির নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতের প্রভাব সোনার দামে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

তবে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছনোর অর্থ এই নয় যে দাম এখান থেকে আরও বাড়বেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্তরে সোনায় বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে ঝুঁকি ও রিটার্ন—দু’টির ভারসাম্য বোঝা জরুরি। যারা স্বল্পমেয়াদে লাভের আশায় বিনিয়োগ করতে চান, তাদের জন্য এই পর্যায়ে প্রবেশ কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, কারণ যেকোনও ইতিবাচক অর্থনৈতিক খবরেই দাম সংশোধনের মুখে পড়তে পারে।
দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য সোনা এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ শ্রেণি। আর্থিক উপদেষ্টারা সাধারণত মোট পোর্টফোলিওর ৫ থেকে ১০ শতাংশ সোনায় রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন, যাতে বাজারের ওঠানামার সময় ঝুঁকি কমানো যায়। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখলে, রেকর্ড দামের মধ্যেও সীমিত পরিমাণে সোনায় বিনিয়োগ যুক্তিসঙ্গত হতে পারে।
এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল বিনিয়োগের মাধ্যম নির্বাচন। শুধুমাত্র গয়না কেনার বদলে গোল্ড ইটিএফ, সোভরেন গোল্ড বন্ড বা ডিজিটাল গোল্ডের মতো বিকল্পগুলিও বিবেচনা করা যেতে পারে। এগুলিতে সংরক্ষণ খরচ কম, স্বচ্ছতা বেশি এবং কিছু ক্ষেত্রে কর সুবিধাও পাওয়া যায়।
যারা ইতিমধ্যেই সোনায় বিনিয়োগ করেছেন, তাদের জন্য এটি হতে পারে পুনর্মূল্যায়নের সময়। দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় কেউ কেউ আংশিক মুনাফা তুলে নিয়ে অন্য সম্পদ শ্রেণিতে বিনিয়োগ করতে পারেন, যাতে পোর্টফোলিওতে ভারসাম্য বজায় থাকে।
সবশেষে বলা যায়, সোনার বর্তমান উজ্জ্বলতা বিনিয়োগকারীদের জন্য সুযোগের পাশাপাশি সতর্কবার্তাও। আবেগের বশে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ না করে, নিজের আর্থিক লক্ষ্য, সময়সীমা ও ঝুঁকির ক্ষমতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। সোনা নিরাপদ আশ্রয় হতে পারে, কিন্তু বিচক্ষণ কৌশল ছাড়া কোনও বিনিয়োগই ঝুঁকিমুক্ত নয়।
