আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের বিমান পরিবহন খাতে শুরু হল এক গুরুত্বপূর্ণ পুনর্বিন্যাস। দেশের বৃহত্তম এয়ারলাইন্স ইন্ডিগোর মোট ফ্লাইট পরিচালনার ১০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকার সেই স্লটগুলো অন্যান্য ঘরোয়া এয়ারলাইন্সের মধ্যে পুনর্বণ্টন করেছে। সরকারের দাবি, এই ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত উদ্যোগের লক্ষ্য হল যাত্রী পরিষেবা বজায় রাখা, রুট কানেক্টিভিটি নিশ্চিত করা এবং বিমানবন্দরের সক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করা।
বিমান পরিবহন মন্ত্রক জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইন্ডিগোর দ্রুত সম্প্রসারণ, অপারেশনাল চাপে সময়ানুবর্তিতা ও পরিষেবার মান নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। সেই প্রেক্ষিতেই সাময়িকভাবে ফ্লাইট সংখ্যা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে যেসব স্লট খালি হয়েছে, সেগুলো এয়ার ইন্ডিয়া গ্রুপ, আকাশ এয়ার, ভিস্তারা ও স্পাইসজেটের মতো অন্যান্য দেশীয় সংস্থার মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্রের মতে, এই পুনর্বণ্টন কোনও এককালীন পদক্ষেপ নয়, বরং একটি “ফেজড অ্যাপ্রোচ”-এর অংশ। অর্থাৎ ধাপে ধাপে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মন্ত্রক স্পষ্ট করেছে, এর মূল উদ্দেশ্য কোনও নির্দিষ্ট এয়ারলাইন্সকে শাস্তি দেওয়া নয়, বরং সামগ্রিকভাবে বিমান পরিষেবার মান উন্নত করা।
ইন্ডিগো বর্তমানে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারের প্রায় ৬০ শতাংশেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে তাদের ফ্লাইট কমানো মানেই বহু ব্যস্ত রুটে সম্ভাব্য আসনসংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তবে সরকার জানিয়েছে, স্লট পুনর্বণ্টনের ফলে সেই শূন্যতা দ্রুত পূরণ করা হবে এবং যাত্রীদের ভোগান্তি কমানোই অগ্রাধিকার।
অন্যান্য এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য এই সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন সুযোগ, তেমনই চ্যালেঞ্জ। নতুন স্লট পাওয়ায় তারা জনপ্রিয় রুটে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়াতে পারবে, বাজারে নিজেদের কাজ জোরদার করার সুযোগ পাবে। বিশেষ করে এয়ার ইন্ডিয়া ও আকাশ এয়ার এই পুনর্বণ্টন থেকে উল্লেখযোগ্য সুবিধা পেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে একই সঙ্গে বাড়তি ফ্লাইট পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত বিমান, ক্রু ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাও তাদের জন্য বড় পরীক্ষা।
যাত্রীদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। কেউ কেউ মনে করছেন, একক এয়ারলাইন্সের আধিপত্য কমলে ভাড়া ও পরিষেবায় প্রতিযোগিতা বাড়বে। আবার অনেক যাত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, হঠাৎ পরিবর্তনের ফলে বুকিং, সংযোগ ফ্লাইট ও সময়সূচি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
ইন্ডিগোর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তারা নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে কাজ করছে এবং যাত্রী নিরাপত্তা ও পরিষেবার মান বজায় রাখাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। তারা আশা প্রকাশ করেছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ধীরে ধীরে পূর্ণ ক্ষমতায় ফেরা সম্ভব হবে।
সামগ্রিকভাবে, এই ১০ শতাংশ ফ্লাইট কমানো ও স্লট পুনর্বণ্টন ভারতের বিমান শিল্পে একটি কৌশলগত মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি শুধু ইন্ডিগোর জন্য নয়, বরং পুরো শিল্পের জন্যই একটি বার্তা—দ্রুত বৃদ্ধি নয়, টেকসই ও ভারসাম্যপূর্ণ পরিচালনাই এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
