আজকাল ওয়েবডেস্ক: অনেকেই মনে করেন বড় অঙ্কের সম্পদ গড়তে গেলে দরকার মোটা বেতন বা বিপুল উত্তরাধিকার। কিন্তু আর্থিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্পদ তৈরির আসল চাবিকাঠি হল নিয়মিত বিনিয়োগ এবং সময়। অল্প টাকাও দীর্ঘ সময় ধরে সঠিকভাবে বিনিয়োগ করলে তা ভবিষ্যতে বিশাল তহবিলে পরিণত হতে পারে। আর সেই সুযোগই দিচ্ছে মিউচুয়াল ফান্ডের সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান বা এসআইপি।
ভাবুন তো, দিনে মাত্র ১০০ টাকা বিনিয়োগ করলে কী হতে পারে? শুনতে সামান্য লাগলেও দীর্ঘমেয়াদে এই ছোট সঞ্চয়ই তৈরি করতে পারে ১ কোটিরও বেশি সম্পদ। মূল রহস্য রয়েছে কম্পাউন্ডিং বা চক্রবৃদ্ধি সুদের শক্তিতে।
এআইপি হল এমন একটি বিনিয়োগ পদ্ধতি যেখানে নির্দিষ্ট সময় অন্তর একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করা হয়। এটি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আর্থিক শৃঙ্খলা তৈরি করে এবং বাজার ওঠানামা নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা কমায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসআইপি-র সবচেয়ে বড় সুবিধা হল “রুপি কস্ট অ্যাভারেজিং” এবং দীর্ঘমেয়াদি কম্পাউন্ডিং।
দিনে ১০০ টাকা অর্থাৎ মাসে প্রায় ৩,০০০ টাকা এসআইপি করলে দীর্ঘ সময় পরে কত টাকা হতে পারে, তা দেখে অনেকেই অবাক হচ্ছেন। উদাহরণ হিসেবে যদি বছরে গড়ে ১২ শতাংশ রিটার্ন ধরা হয়, তাহলে ছবিটা এমন দাঁড়ায়।
১০ বছরে কত হতে পারে?
যদি প্রতিদিন ১০০ টাকা করে ১০ বছর এসআইপি করা হয়, তাহলে মোট বিনিয়োগ দাঁড়াবে প্রায় ৩.৬৫ লক্ষ টাকা। ১২ শতাংশ বার্ষিক রিটার্ন ধরে সেই টাকার সম্ভাব্য মূল্য হতে পারে প্রায় ৭.০৫ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ বিনিয়োগ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে।
২০ বছরে কত হতে পারে?
একই বিনিয়োগ ২০ বছর ধরে চালিয়ে গেলে মোট জমা হবে প্রায় ৭.৩ লক্ষ টাকা। কিন্তু কম্পাউন্ডিংয়ের কারণে সম্ভাব্য তহবিল পৌঁছাতে পারে প্রায় ৩০.৪৮ লক্ষ টাকায়। অর্থাৎ রিটার্নই হয়ে উঠবে আসল সম্পদ তৈরির চালিকাশক্তি।
৩০ বছরে ১ কোটির বেশি!
সবচেয়ে বড় চমক আসে দীর্ঘমেয়াদে। দিনে মাত্র ১০০ টাকা করে ৩০ বছর চালিয়ে গেলে মোট বিনিয়োগ হবে প্রায় ১০.৯৫ লক্ষ টাকা। কিন্তু ১২ শতাংশ সম্ভাব্য রিটার্নে সেই অর্থ বেড়ে হতে পারে প্রায় ১.০৮ কোটি টাকা।
আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেকেই বেশি আয় না হওয়া পর্যন্ত বিনিয়োগ শুরু করতে চান না। কিন্তু বাস্তবে তাড়াতাড়ি শুরু করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সময় যত বেশি, কম্পাউন্ডিংয়ের প্রভাবও তত বেশি হয়।
তবে মনে রাখতে হবে, মিউচুয়াল ফান্ড বাজারের সঙ্গে যুক্ত। তাই রিটার্ন কখনও নিশ্চিত নয় এবং বাজারের ওঠানামার প্রভাব পড়তে পারে। তবুও দীর্ঘমেয়াদে ইকুইটি মিউচুয়াল ফান্ড ঐতিহাসিকভাবে ভালো রিটার্ন দিয়েছে।
ছোট থেকে শুরু করাই ভবিষ্যতের বড় আর্থিক নিরাপত্তার ভিত্তি হতে পারে। তাই দিনে এক কাপ চায়ের খরচ বাঁচিয়ে এসআইপি শুরু করলে ভবিষ্যতে সেই টাকাই হতে পারে সন্তানের পড়াশোনা, বাড়ি কেনা বা অবসরের নিরাপদ ভরসা।















