আজকাল ওয়েবডেস্ক: চীনের প্রতি অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ সহজ করার সম্ভাবনা রয়েছে। বিষয়টি এখন ভারতের উচ্চপর্যায়ে পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। তবে এই শিথিলতা হবে না একতরফা—সম্পূর্ণটাই নির্ভর করবে বেইজিংয়ের প্রতিদানমূলক ও ক্যালিব্রেটেড পদক্ষেপের ওপর। বিশ্বের বাণিজ্য পরিবেশ, বাড়তে থাকা রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আরও কঠোর মার্কিন শুল্কের প্রেক্ষাপটে দিল্লি এই আলোচনাকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে।


সরকারি সূত্র জানিয়েছে, চীনের ক্ষেত্রে নীতি-পরিবর্তন যদি হয়ও, তা হবে ধাপে ধাপে, সরাসরি ও পূর্ণাঙ্গ শিথিলতা নয়। ইতিমধ্যে ভারত চীনা কর্মীদের জন্য বিজনেস ভিসা প্রদান প্রক্রিয়া সহজ করেছে। এখন বিনিয়োগ-সম্পর্কিত কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করা যায় কি না, সেটিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।


নীতি শিথিলতার প্রাথমিক কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। নীতি আয়োগের সদস্য রাজীব গৌবার নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি পূর্বেই চীনা বিনিয়োগের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সুপারিশ করেছিল। একইসঙ্গে অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৩–২৪-এ উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ভারত তার রপ্তানি প্রতিযোগিতা বাড়াতে চীনা পুঁজি আকর্ষণের বিষয়ে ভাবতে পারে।


চীনা বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণের নেপথ্য
২০২০ সালের এপ্রিল মাসে ভারত চীনসহ স্থলসীমান্ত ভাগ করা দেশগুলোর বিনিয়োগের ওপর কড়া নিয়ম প্রয়োগ করে। এই নিয়ম অনুযায়ী, চীনের মতো দেশ থেকে আসা সরাসরি বা পরোক্ষ বিনিয়োগে সরকারের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়। কোভিড মহামারির সুযোগে অপব্যবহার ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে একই বছর গালওয়ান সংঘর্ষের পরে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগে এই নিয়ম বহাল রাখা হয়।


কূটনীতিতেও সমান্তরাল সমন্বয়
অর্থনৈতিক দিক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি, সম্পর্ক স্থিতিশীল করতে কূটনীতিতেও ধীরে ধীরে পুনঃযোগাযোগ গড়ে তোলা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে:
কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা পুনরায় চালু
সরাসরি ফ্লাইট পুনর্বহাল
সাংবাদিক ও গবেষকদের ভিসা প্রদান
সীমান্তবর্তী নদীর তথ্য বিনিময়


এই পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে উভয় পক্ষই সম্পর্ক স্থিতিশীল ও পুনর্গঠনের দিকে কাজ করছে। সাম্প্রতিক বৈঠকের পর ভারত জানায় যে, দুই দেশ “ভারত-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক অবস্থা পর্যালোচনা করেছে” এবং উন্নতির পদক্ষেপ গ্রহণে রাজি হয়েছে যাতে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা যায়।

 


চীনের সাথে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার ফলে ভারতের নীতি যে বাস্তববাদী ও ধাপে ধাপে এগোচ্ছে, তা স্পষ্ট। একই সঙ্গে নিরাপত্তা, রাজনীতি, অর্থনীতি এবং বিশ্ব বাণিজ্যের জটিল সমীকরণও এই আলোচনাকে প্রভাবিত করছে। সামনের দিনগুলোতে বেইজিং কী পদক্ষেপ নেয় এবং ভারত কতটা শিথিল হয়—তা এই অঞ্চলের কূটনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।