আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরান-আমেরিকা সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কার মধ্যে দেশবাসীর কাছে বিশেষ আবেদন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি সাধারণ মানুষকে কোভিড সময়ের কিছু অভ্যাস আবার ফিরিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছেন। যেমন— প্রয়োজন ছাড়া বিদেশ সফর এড়ানো, সম্ভব হলে ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু রাখা, ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহণ ব্যবহার করা এবং জ্বালানির অপচয় কমানো।
প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানের পিছনে রয়েছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার রক্ষা এবং তেলের আমদানির খরচ কমানোর লক্ষ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত যদি জ্বালানির ব্যবহার সামান্যও কমাতে পারে, তাহলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় সম্ভব।
কোভিড মহামারির সময় দেশজুড়ে লকডাউন এবং ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালুর ফলে জ্বালানির চাহিদা ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছিল। সেই সময় ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানির খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে নেমে আসে। বিভিন্ন অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২০ সালে ভারতের জ্বালানি আমদানি বিল কয়েক বিলিয়ন ডলার কমেছিল শুধুমাত্র কম যাতায়াত এবং শিল্প উৎপাদনের ধীরগতির কারণে।
ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশ। দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশ তেল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেই সরাসরি চাপ পড়ে ভারতের অর্থনীতির উপর। বর্তমানে ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্থির হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয়কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কেন্দ্র।
অর্থনীতিবিদদের মতে, যদি বড় শহরগুলিতে আংশিকভাবে ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু হয় এবং ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার কমে, তাহলে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ লিটার জ্বালানি সাশ্রয় হতে পারে। শুধু তাই নয়, বিদেশ সফর কমলে বিমান জ্বালানির ব্যবহারও কমবে। এর ফলে ডলারে তেল আমদানির প্রয়োজন কিছুটা হলেও হ্রাস পাবে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের হিসাব, ভারত যদি সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবহার মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ কমাতে পারে, তাহলে বছরে কয়েক বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় সম্ভব। এর ফলে টাকার উপর চাপও কিছুটা কমবে। সম্প্রতি ডলারের তুলনায় ভারতীয় মুদ্রার মূল্য রেকর্ড নিম্নস্তরে পৌঁছেছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, দেশীয় পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো এবং অপ্রয়োজনীয় আমদানি কমানো এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে সোনা কেনা কমানোর আবেদনও জানিয়েছেন তিনি। কারণ সোনা আমদানিতেও বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয়। ইতিমধ্যেই কেন্দ্র সোনা ও রুপোর আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ মানুষের ছোট ছোট সাশ্রয়ও দেশের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কোভিডের সময় যেমন কম যাতায়াত ও সীমিত খরচের ফলে জ্বালানি ব্যবহার কমেছিল, তেমন পরিস্থিতি আংশিকভাবে ফিরলে বর্তমান অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা সামাল দেওয়া সম্ভব হতে পারে।
&t=1s
তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে শুধু সাশ্রয় নয়, বিকল্প জ্বালানি এবং দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোই ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় সমাধান হতে পারে।















