আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোনা ও রুপোর আমদানি শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্তের জেরে বুধবার বড় ধাক্কা খেল গয়না শিল্পের শেয়ারগুলি। কেন্দ্রীয় সরকার সোনা ও রুপোর আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করতেই শেয়ার বাজারে বিক্রির চাপ বাড়ে গয়না প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির উপর। বাজার খোলার পর থেকেই একাধিক নামী জুয়েলারি সংস্থার শেয়ারে তীব্র পতন দেখা যায়।
সবচেয়ে বেশি চাপে ছিল কল্যাণ জুয়েলার্স, পিসি জুয়েলার্স, সেনকো গোল্ড এবং টাইটানের মতো সংস্থাগুলি। দিনের লেনদেনে কিছু শেয়ার প্রায় ৬ শতাংশ পর্যন্ত নেমে যায়। বুধবারই একধাক্কায় সোনার দাম বেড়েছে ৯ হাজারের বেশি। রূপো বেড়েছে ১৬ হাজারের বেশি।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির ফলে সোনা ও রুপোর দাম আরও বাড়তে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে গয়নার ব্যবসায়। কাঁচামালের খরচ বাড়লে সংস্থাগুলির মুনাফার উপর চাপ তৈরি হবে। পাশাপাশি সাধারণ ক্রেতাদের চাহিদাও কমতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কেন্দ্রের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সোনা ও রুপোর উপর মোট ১৫ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১০ শতাংশ বেসিক কাস্টমস ডিউটি এবং ৫ শতাংশ এগ্রিকালচার ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেস। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারের উপর চাপ নিয়ন্ত্রণ করাই মূল লক্ষ্য।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীর কাছে এক বছরের জন্য সোনা কেনা এড়ানোর আবেদন জানিয়েছিলেন। বিশেষ করে বিয়ের জন্য সোনা কেনা কমানোর পরামর্শ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সেই মন্তব্যের পর থেকেই গয়না শিল্পের শেয়ারগুলিতে চাপ তৈরি হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর আবেদন এবং নতুন শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত মিলিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাজারে ইতিবাচক কোনও খবর না আসা পর্যন্ত এই খাতে দুর্বলতা বজায় থাকতে পারে বলেও তিনি মনে করছেন।
আন্তর্জাতিক ব্রোকারেজ সংস্থা নোমুরা আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল যে সরকার অপ্রয়োজনীয় আমদানির উপর নিয়ন্ত্রণ আনতে পারে। বিশেষ করে সোনার মতো পণ্যে শুল্ক বৃদ্ধি হতে পারে বলে তারা পূর্বাভাস দিয়েছিল। এছাড়া মার্চ মাস থেকে প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সোনার চালান কাস্টমসে আটকে থাকার ঘটনাও সামনে এসেছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম আগেই ওপরের দিকে রয়েছে। তার উপর অতিরিক্ত শুল্ক যোগ হওয়ায় ভারতীয় বাজারে সোনার দাম আরও বেড়ে যেতে পারে। ফলে উৎসব ও বিয়ের মরশুমে চাহিদা কমার আশঙ্কা রয়েছে।
&t=1s
শেয়ার বাজারে এই পতন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে বিনিয়োগকারীরা আপাতত গয়না শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন। আগামী দিনে সোনার দামের গতিপ্রকৃতি এবং সরকারের পরবর্তী অর্থনৈতিক পদক্ষেপের উপর এই খাতের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে বলে মনে করছে বাজার বিশেষজ্ঞরা।















