আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানে রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। শনিবার থেকে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে সরকারবিরোধী আন্দোলন ব্যাপক রূপ লাভ করে। ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ও কঠোর দমনপীড়নের মাঝেও জনতা “স্বাধীনতা” ও “স্বৈরশাসনের অবসান” দাবি করে স্লোগান তোলে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেয়ীর নেতৃত্বাধীন সরকার বিক্ষোভ দমনে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিলেও আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি শিথিল হওয়ার কোনও লক্ষণ নেই।
একই সময়ে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জনতার পাশে দাঁড়াতে “প্রস্তুত”। তবে ইরান স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, কোনও সামরিক বা কৌশলগত হস্তক্ষেপ হলে এর কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে সামরিক পদক্ষেপের জন্য পরিকল্পনা তৈরি করছে। একজন প্রাক্তন মার্কিন সেনা কর্নেল ও সামরিক বিশ্লেষক বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য সামরিক সরঞ্জাম ও সেনা সমাবেশের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এরফলে পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটাতে পারে।
এই রাজনৈতিক উত্তেজনার অর্থনৈতিক প্রভাবও দ্রুত ফুটে উঠছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান সীমান্তে দ্রুত সামরিক সাজসজ্জা বিশ্বের সম্পদবাজারে অন্য ধরণের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে। এই সংঘাতের ফলে বিশ্বের স্টক মার্কেটসহ ভারতীয় শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব আসতে পারে। বিপরীত দিকে সোনা ও রুপার মতো ‘সেফ-হেভেন’ সম্পদের চাহিদা বাড়বে।
অনিশ্চয়তার পরিবেশ বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি আছে এমন সম্পদ থেকে দূরে রাখবে। ফলে শেয়ারবাজারে ‘ফ্ল্যাট টু নেগেটিভ’ ওপেনিং দেখা যেতে পারে, যেখানে সোনা ও রুপার দামে উর্ধ্বমুখী গতি লক্ষ্যযোগ্য হবে।
ইরান সীমান্তে মার্কিন সামরিক মোতায়েনের নতুন খবর সোনা ও রুপার দামে দ্রুত উর্ধ্বগতি নিয়ে আসবে। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজার উভয় ক্ষেত্রেই সোনার ‘গ্যাপ-আপ ওপেনিং’ হওয়ার আশঙ্কা প্রবল।
আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম প্রতি আউন্স ৪৫৫০ মার্কিন পর্যন্ত স্পর্শ করতে পারে। এমসিএক্সে প্রতি ১০ গ্রামে সোনা ১,৪২,০০০ পর্যন্ত উঠতে পারে। একইভাবে, রুপার দাম আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স ৮২ থেকে ৮৫ মার্কিন পর্যন্ত এবং এমসিএক্সে প্রতি কেজি ২,৫৬,০০০ থেকে ২,৬০,০০০ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
এই পরিস্থিতি থেকে পরিষ্কার, ইরানে বিক্ষোভ এখন কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট নয়, বরং বিশ্বের রাজনীতি, অর্থনীতি ও নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামনের দিনগুলোতে আন্দোলন কতদূর গড়াবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কী ভূমিকা নেবে এবং বিশ্বের বাজার কেমন থাকবে। সবই এখন আন্তর্জাতিক আসরের একটি নজরকাড়া বিষয় হবে।
