আজকাল ওয়েবডেস্ক:  গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা—যার পেছনে রয়েছে অপরিশোধিত তেলের দামের উত্থান—এই দুইয়ের প্রভাবেই সোনায় ব্যাপক বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে।


এমসিএক্সে সোনার দাম, যা মার্কিন-ইরান যুদ্ধ শুরুর সময় ১,৬০,০০০ প্রতি ১০ গ্রাম স্তরের কাছাকাছি ছিল, তা গত সপ্তাহে নেমে এসেছে ১,৪৪,৮২৫-এ। এই দাম আরও কমার পথে।  
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে সোনার দাম একটি জটিল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে মধ্য এশিয়ার উত্তেজনা সোনার চাহিদা বাড়াতে পারত, কারণ এটি একটি নিরাপদ বিনিয়োগ । অন্যদিকে, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা সোনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নিম্নমুখী প্রবণতা আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে। ভারতের বাজারে সোনার দাম ১,২৭,০০০ প্রতি ১০ গ্রাম পর্যন্ত নামতে পারে, এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তা ৪,২৫০ প্রতি আউন্স মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষত ইজরায়েল ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলা এবং তার পাল্টা জবাবে ইরানের গালফ অঞ্চলের জ্বালানি কাঠামোতে আক্রমণ—এই ঘটনাগুলি বিশ্বের জ্বালানি বাজারে ঝুঁকি বাড়িয়েছে। এর ফলে তেলের দাম বেড়েছে, যা বিশ্বজুড়ে আমদানি-নির্ভর মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি পেলে পরিবহন ও উৎপাদন খরচও বাড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে মূল্যস্ফীতির ওপর। অন্যদিকে, বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চলতি যুদ্ধ সত্ত্বেও সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী নয়, কারণ বাজার এখন মূলত কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির নীতির দিকে নজর দিচ্ছে। তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে যদি মূল্যস্ফীতি বাড়ে, তাহলে বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলিকে সুদের হার বাড়াতে বা অন্তত উচ্চস্তরে ধরে রাখতে হবে।


এই প্রবণতা ইতিমধ্যেই দেখা গেছে। ফেডেরাল রিজার্ভ, ব্যাঙ্ক অফ জাপান, ব্যাঙ্ক অফ কানাডা এবং ব্যাঙ্ক অফ ইংল্যান্ডে। এরা সকলেই সম্প্রতি সুদের হার নিয়ে সতর্কতা ও কিছুটা কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে।


সাধারণত সুদের হার বাড়লে সোনার আকর্ষণ কমে যায়, কারণ সোনা কোনও সুদ দেয় না। ফলে বিনিয়োগকারীরা তখন সুদ-প্রদায়ী সম্পদের দিকে ঝুঁকে পড়েন।

 

&t=4s
সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও, শক্তিশালী ডলার ও সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা সোনার বাজারকে চাপে রাখছে। আগামী দিনে এই দুইয়ের টানাপোড়েনেই নির্ধারিত হবে সোনার দামের দিকনির্দেশ।