আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশের কোটি কোটি বেতনভোগী কর্মীর জন্য স্বস্তির খবর। অবশেষে কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংস্থা ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য ৮.২৫ শতাংশ হারে সুদ সদস্যদের ইপিএফ অ্যাকাউন্টে জমা করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্রতি বছরের মতো এবারও বহু সদস্য অধীর আগ্রহে সুদ জমার অপেক্ষায় ছিলেন। এবার বড় প্রযুক্তিগত আপগ্রেডের ফলে আগের তুলনায় দ্রুত সুদ অ্যাকাউন্টে দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রকের অনুমোদনের পর ইপিএফও ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন আঞ্চলিক অফিসে সুদ জমার নির্দেশিকা জারি করেছে। কর্মচারী ভবিষ্যনিধি প্রকল্পের অধীনে যোগ্য সমস্ত সদস্যের অ্যাকাউন্টে ৮.২৫ শতাংশ হারে সুদ জমা করা হবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, টানা তৃতীয় অর্থবর্ষেও একই ৮.২৫ শতাংশ সুদের হার বজায় রাখল, যা অবসরকালীন সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে সদস্যদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা।


সাধারণত সুদের হার ঘোষণা হওয়ার পরও সদস্যদের অ্যাকাউন্টে সেই সুদ প্রতিফলিত হতে কয়েক সপ্তাহ থেকে এক-দু'মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেত। তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। সম্প্রতি ইপিএফও তাদের ডেটাবেস একীভূতকরণ এবং সফটওয়্যার আপগ্রেডের বড় কাজ সম্পন্ন করেছে। ফলে সুদ গণনা ও অ্যাকাউন্টে জমা করার পুরো প্রক্রিয়াটি আগের তুলনায় আরও দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


এদিকে অনলাইন পরিষেবায়ও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। সম্প্রতি যারা ইউনিফায়েড মেম্বার পোর্টালে লগ-ইন করেছেন, তারা লক্ষ্য করে থাকতে পারেন যে আগের কিছু পরিষেবা আর সেখানে দেখা যাচ্ছে না। কারণ, এক সপ্তাহের রক্ষণাবেক্ষণ কাজের পর ইপিএফও দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা সরকারি উমাঙ্গ অ্যাপে স্থানান্তর করেছে।


সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হল, এখন আর ইপিএফও ওয়েবসাইট থেকে ইউএএন অ্যাক্টিভেট করা যাবে না। একে সক্রিয় করতে হলে সদস্যদের বাধ্যতামূলকভাবে উমাঙ্গ অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে এবং সেখানে আধার-ভিত্তিক ফেস অথেনটিকেশন সম্পূর্ণ করতে হবে। একইভাবে নতুন ইউএএন তৈরির সুবিধাও পিএফ পোর্টাল থেকে সরিয়ে শুধুমাত্র অ্যাপে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে ডিজিটাল পরিষেবার নিরাপত্তা, গতি এবং নির্ভরযোগ্যতা আরও বাড়বে।


এর পাশাপাশি নতুন ইপিএফ স্কিমে স্বেচ্ছায় অতিরিক্ত পিএফ অবদানের নিয়মও স্পষ্ট করা হয়েছে। নতুন বিধি অনুযায়ী, আইন অনুসারে নির্ধারিত বেতনসীমার বেশি কর্মী যদি স্বেচ্ছায় অতিরিক্ত পিএফ জমা করেন, তাহলে সেই অতিরিক্ত অংশে সমপরিমাণ অর্থ জমা করার জন্য নিয়োগকর্তা বাধ্য থাকবেন না। অর্থাৎ অতিরিক্ত অবদানে নিয়োগকর্তার অংশগ্রহণ সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নীতির ওপর নির্ভর করবে।


এই পরিস্থিতিতে ইপিএফ সদস্যদের আগামী কয়েক সপ্তাহ নিয়মিত তাঁদের পিএফ অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে সুদ জমা হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়। যাঁদের ইউএএন অ্যাক্টিভেট করা বা নতুন ইউএএন তৈরি করার প্রয়োজন রয়েছে, তাঁদের অবশ্যই অ্যাপের মাধ্যমে আধার-ভিত্তিক ফেস অথেনটিকেশন সম্পন্ন করতে হবে। 

&t=1s