আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের জন্য বড় ধাক্কা। জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রাম থেকে নীরবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন সুবিধা। ফলে এখন থেকে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত ডাইরেক্ট মেসেজ শুধুমাত্র সাধারণ এনক্রিপশনের মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকবে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তন ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা এবং ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন এমন একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যেখানে বার্তা পাঠানো ব্যক্তি এবং যিনি বার্তাটি গ্রহণ করছেন, শুধুমাত্র তাঁরাই সেই মেসেজ পড়তে পারেন। এমনকি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাও সেই বার্তার বিষয়বস্তু দেখতে পারে না। হোয়াটসঅ্যাপ বা সিগন্যালের মতো প্ল্যাটফর্মে এই প্রযুক্তি দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহার হচ্ছে।
কিন্তু ইনস্টাগ্রাম এখন সেই অতিরিক্ত সুরক্ষা সরিয়ে সাধারণ এনক্রিপশনের উপর নির্ভর করছে। এর অর্থ, বার্তাগুলি এখনও এনক্রিপ্টেড থাকবে ঠিকই, তবে প্রয়োজনে প্ল্যাটফর্মের সার্ভার সেই ডেটা অ্যাক্সেস করতে সক্ষম হতে পারে। অর্থাৎ, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত কথোপকথনের উপর আগের মতো পূর্ণ গোপনীয়তার নিশ্চয়তা আর থাকছে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অধিকাংশ সাধারণ ব্যবহারকারী হয়তো এই পরিবর্তন তাৎক্ষণিকভাবে টের পাবেন না। কারণ মেসেজ পাঠানো বা গ্রহণের অভিজ্ঞতায় কোনও দৃশ্যমান পরিবর্তন হবে না। কিন্তু নিরাপত্তার দিক থেকে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী, ব্যবসায়ী বা সংবেদনশীল তথ্য আদানপ্রদান করেন এমন ব্যবহারকারীদের জন্য এই সিদ্ধান্ত উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মেটা হয়তো কনটেন্ট মনিটরিং, বিজ্ঞাপনভিত্তিক বিশ্লেষণ বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে তথ্য ভাগাভাগির সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে। যদিও সংস্থার তরফে এখনও এনিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, গোপনীয়তা রক্ষাকারী সংগঠনগুলি বলছে, ডিজিটাল যুগে ব্যক্তিগত বার্তার নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবহারকারীরা যখন কোনও প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিগত কথোপকথন করেন, তখন তাঁরা ধরে নেন সেই তথ্য সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকবে। এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন সরিয়ে নেওয়া সেই বিশ্বাসে আঘাত হানতে পারে।
তাহলে ব্যবহারকারীদের কী করা উচিত? বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অত্যন্ত ব্যক্তিগত বা সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। প্রয়োজনে সিগন্যাল বা হোয়াটসঅ্যাপের মতো শক্তিশালী এনক্রিপশন-সমৃদ্ধ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি ইনস্টাগ্রামের প্রাইভেসি সেটিংস নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং সন্দেহজনক লিঙ্ক বা অ্যাকাউন্ট থেকে দূরে থাকাও জরুরি।
ডিজিটাল দুনিয়ায় ব্যক্তিগত তথ্যই এখন সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। তাই প্রযুক্তি সংস্থাগুলির প্রতিটি পরিবর্তনের প্রভাব বুঝে সচেতনভাবে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।















