আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতে বীমা এখনও অনেকের কাছে বিলাসিতা হিসেবেই থেকে গেছে। স্বাস্থ্য বীমা, জীবন বীমা বা ফসল বীমা—সব ক্ষেত্রেই বড় একটি জনগোষ্ঠী পর্যাপ্ত সুরক্ষার বাইরে। চিকিৎসার ক্রমবর্ধমান খরচ, অনিশ্চিত আয় এবং আর্থিক অজ্ঞতার কারণে সাধারণ মানুষের পক্ষে নিয়মিত প্রিমিয়াম দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এই প্রেক্ষাপটে বাজেট ২০২৬ একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ এনে দিতে পারে—যার মাধ্যমে বীমাকে আরও সাশ্রয়ী, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং জনগণের নাগালের মধ্যে আনা সম্ভব।


প্রথমত, কর ছাড়ের সীমা বৃদ্ধি বীমাকে জনপ্রিয় করার একটি বড় হাতিয়ার হতে পারে। বর্তমানে স্বাস্থ্য ও জীবন বীমার প্রিমিয়ামের ওপর যে কর ছাড় পাওয়া যায়, তা বাস্তব চিকিৎসা ব্যয়ের তুলনায় অনেক ক্ষেত্রেই অপর্যাপ্ত। বাজেট ২০২৬-এ যদি স্বাস্থ্য বীমার কর ছাড়ের সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়, বিশেষ করে সিনিয়র সিটিজেন এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য, তাহলে আরও মানুষ বীমার আওতায় আসতে উৎসাহিত হবেন।


দ্বিতীয়ত, সরকারি ভর্তুকি ও সহ-অর্থায়ন মডেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যেমন আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বড় সহায়তা হলেও, নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির একটি বড় অংশ এখনও পর্যাপ্ত কভারেজ পায় না। বাজেট ২০২৬ যদি আয়ভিত্তিক ভর্তুকি মডেলের মাধ্যমে প্রাইভেট স্বাস্থ্য বীমার প্রিমিয়ামের একটি অংশ বহন করে, তাহলে এই “মিসিং মিডল” শ্রেণির জন্য বীমা অনেক বেশি সাশ্রয়ী হবে।


তৃতীয়ত, ডিজিটাল বীমা ও মাইক্রো-ইনস্যুরেন্সের ওপর জোর দেওয়া যেতে পারে। ছোট প্রিমিয়াম, সীমিত কিন্তু প্রয়োজনভিত্তিক কভারেজ—এই ধরনের বীমা গ্রামীণ ও অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদের জন্য কার্যকর হতে পারে। বাজেটে যদি ইনস্যুরটেক কোম্পানিগুলিকে কর ছাড়, সহজ নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং স্টার্টআপ সহায়তা দেওয়া হয়, তাহলে কম খরচে উদ্ভাবনী বীমা পণ্য বাজারে আসবে।
চতুর্থত, স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পরোক্ষভাবে বীমার খরচ কমাতে পারে। সরকারি হাসপাতাল ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র শক্তিশালী হলে চিকিৎসা ব্যয় কমবে, ফলে বীমা সংস্থাগুলির ক্লেইম খরচও হ্রাস পাবে। এর প্রভাব পড়বে প্রিমিয়ামের ওপর, যা দীর্ঘমেয়াদে সাধারণ মানুষের জন্য লাভজনক।

 


আর্থিক সচেতনতা ও বীমা শিক্ষাকেও বাজেটের অগ্রাধিকার দেওয়া দরকার। শুধু সস্তা বীমা থাকলেই হবে না, মানুষকে তার প্রয়োজনীয়তা ও উপকারিতা বোঝাতে হবে। স্কুল, কর্মক্ষেত্র ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ালে বীমা গ্রহণের হার স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, বাজেট ২০২৬ যদি কর সংস্কার, ভর্তুকি, ডিজিটাল উদ্ভাবন এবং স্বাস্থ্য পরিকাঠামো—এই চারটি স্তম্ভের ওপর গুরুত্ব দেয়, তাহলে ভারতের বীমা ব্যবস্থা আরও সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়ে উঠতে পারে। এটি শুধু আর্থিক সুরক্ষাই নয়, দীর্ঘমেয়াদে একটি সুস্থ ও স্থিতিশীল সমাজ গঠনের পথও প্রশস্ত করবে।