আজকাল ওয়েবডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই আজ আর কেবল প্রযুক্তিগত কৌতূহলের বিষয় নয়। এটি ধীরে ধীরে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলিতেও প্রভাব ফেলছে। বিনিয়োগ পরামর্শ, বাজেট তৈরি, অবসর পরিকল্পনা সব ক্ষেত্রেই এআই-চালিত টুল ও প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে একটি স্বাভাবিক প্রশ্ন উঠে আসছে: আর্থিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে কি এআই সম্পূর্ণভাবে একজন মানব উপদেষ্টাকে প্রতিস্থাপন করতে পারে?
এআই-এর সবচেয়ে বড় শক্তি হল ডেটা বিশ্লেষণের ক্ষমতা ও গতি। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই এআই লক্ষ লক্ষ আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগের সম্ভাব্য রিটার্ন, ঝুঁকি এবং বাজার প্রবণতা সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে। রোবো-অ্যাডভাইজারগুলি নির্দিষ্ট অ্যালগরিদমের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর আয়, বয়স, লক্ষ্য ও ঝুঁকির মানসিকতার ভিত্তিতে বিনিয়োগ পোর্টফোলিও তৈরি করতে সক্ষম। এতে খরচ কমে এবং সাধারণ মানুষের জন্য আর্থিক পরিকল্পনা আরও সহজলভ্য হয়।
তবে শুধুমাত্র তথ্য বিশ্লেষণই আর্থিক পরিকল্পনার সবকিছু নয়। মানব উপদেষ্টার একটি বড় ভূমিকা হল ব্যক্তিগত বোঝাপড়া ও আবেগগত সহায়তা। বাজারের ওঠানামার সময় ভয়ের বশে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিনিয়োগকারীকে বিরত রাখা, জীবনে নানা পরিবর্তন—যেমন চাকরি হারানো, অসুস্থতা বা পারিবারিক দায়িত্ব—এই সব বিষয়কে আর্থিক পরিকল্পনায় মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে অন্তর্ভুক্ত করা এআই-এর পক্ষে এখনও কঠিন।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল নৈতিকতা ও বিশ্বাস। একজন মানব উপদেষ্টার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যেখানে বিশ্বাস, দায়িত্ব ও জবাবদিহি থাকে। অন্যদিকে, এআই সিস্টেম অ্যালগরিদম ও ডেটার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় ভুল ইনপুট বা পক্ষপাতদুষ্ট তথ্য থাকলে সিদ্ধান্তও ত্রুটিপূর্ণ হতে পারে। এই ক্ষেত্রে তত্ত্বাবধান অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে আর্থিক পরিকল্পনার জগতে এআই ও মানব উপদেষ্টার সহাবস্থানই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত মডেল। এআই রুটিন বিশ্লেষণ, হিসাব ও ডেটা-চালিত পরামর্শ দেবে, আর মানব উপদেষ্টা জটিল সিদ্ধান্ত, দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য এবং আবেগগত দিক সামলাবেন।
সার্বিকভাবে বলা যায়, এআই আর্থিক পরিকল্পনাকে আরও দক্ষ ও সাশ্রয়ী করতে পারলেও, সম্পূর্ণভাবে মানব উপদেষ্টাকে প্রতিস্থাপন করা এখনও সম্ভব নয়। বরং সঠিক ভারসাম্যে এআই ও মানুষের সমন্বয়ই বিনিয়োগকারীদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য সমাধান হয়ে উঠতে পারে।
