আজকাল ওয়েবডেস্ক: রবিবার সকালে একদিকে শুরু হয়েছে ফলতা পুনর্নিবাচনের ভোট গণনা। যেখানে রাজ্যের অন্যান্য জায়গার মতোই প্রথম স্থানে রয়েছে বিজেপি। ১০ রাউন্ড ভোটগণনার পর দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বামেরা। উচ্ছ্বসিত রাজ্য বিজেপির সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। তবে ভোটে বামেদের এই ফল নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কার্যত মুখে কুলুপ আঁটলেন তিনি।

 

এ দিন শহরে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতি ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন রাজারহাট নিউটাউন বিধানসভার বিধায়ক পীযূষ কানরিয়াও। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলে ফলতার পুনর্নিবাচনের ফল নিয়ে শমীক ভট্টাচার্যকে প্রশ্ন করা হয়। রাজ্যে কার্যত 'শূন্য' হলেও ফলতার ভোটে উল্লেখযোগ্য ভাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বামেরা। তা হলে কী ২০২৯-এর লোকসভা ভোটে বিজেপি-র মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বামেরাই? সেই প্রশ্নের উত্তর একরকম ভাবে এড়িয়ে গেলেন শমীক। বললেন, "আমরা এই মুহূর্তে রাজ্যের সার্বিক আর্থসামাজিক উত্তরণের লক্ষ্যে কাজ করছি।" তারপরই খানিক রসিকতা করে বুঝিয়ে দেন তাঁরা ভোটে কে প্রথম বা দ্বিতীয় তা নিয়ে তেমন ভাবিত নন। বলেন, "প্রথম না হয়, দ্বিতীয় না হয়, তৃতীয় না হয় আমরা সবাই- এই গানের মধ্যে আমরা নেই।"

 

উল্লেখ্য, কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই চলছে ফলতার পুনর্নির্বাচনের ভোট গণনা। ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নিবাচনকে কেন্দ্র করে শুরু থেকেই রাজনৈতিক উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে বাকযুদ্ধও চোখে পড়েছে। একেবারে শুরু থেকেই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ছিল বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডা। সেই আশাই সত্যি হল। ফলতায় পুনর্নিবাচনের গণণায় ২১ রাউন্ডের মধ্যে ১০ রাউন্ড শেষে প্রথম স্থানে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডা। প্রাপ্ত ভোট- ৬৪,২৩৮। দ্বিতীয় স্থানে বাম প্রার্থী শম্ভু নাথ কুড়মি। প্রাপ্ত ভোট- ২৫,২৯৮। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুর রেজ্জাক মোল্লা। পেয়েছেন ৬৪২৯ ভোট। একেবারে শেষ স্থানে রয়েছেন ফলতার 'পুষ্পা' তৃণমূল কংগ্রেসের জাহাঙ্গীর খান। প্রাপ্ত ভোট- ৩৩০৪। অর্থাৎ 'ঝুঁকেগা নেহি' বলে গর্জে ওঠা জাহাঙ্গীরের বিজেপি প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের থেকে এখনও প্রায় ৬১ হাজার ভোটে পিছিয়ে।

 

উল্লেখ্য, রাজ্যের ভোটে ভরাডুবির পরে, পুনর্নিবাচনের ঠিক আগে, ভোটে লড়বেন না বলে বলে জানান জাহাঙ্গীর। রাজনৈতিক মহলে সেদিন ফের চর্চা শুরু হয়। তৃণমূল নেতৃত্ব আবার স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, জাহাঙ্গীরের সিদ্ধান্তের সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই। তার পরেও দল কেন কঠোর নয় জাহাঙ্গীরকে নিয়ে, সেই আলোচনায় বিবাদ তৈরি হয় কালীঘাটেও।