আজকাল ওয়েবডেস্ক: টানা কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণে ফের ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে সুবর্ণরেখা নদী। নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝাড়গ্রাম জেলার নয়াগ্রাম ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। 

সুবর্ণরেখার প্রবল স্রোতে দেউলবাড় ও গড়ধরা গ্রামের সংযোগকারী ফেয়ার ওয়েদার ব্রিজ সম্পূর্ণ জলের তলায় চলে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল। ফলে নিত্যযাত্রী, পড়ুয়া, কৃষক, ব্যবসায়ী-সহ হাজার হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা এখন নৌকা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে সুবর্ণরেখার জলস্তর হু হু করে বাড়তে শুরু করে। নদীর স্রোত এতটাই তীব্র যে মুহূর্তের মধ্যেই ফেয়ার ওয়েদার ব্রিজটি সম্পূর্ণভাবে জলের নিচে তলিয়ে যায়। দুর্ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই ব্রিজ দিয়ে সব ধরনের যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এই ব্রিজটি দেউলবাড়, গড়ধরা-সহ আশপাশের একাধিক গ্রামের মানুষের অন্যতম প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম। প্রতিদিন এই পথ দিয়েই স্কুল-কলেজের পড়ুয়া, কর্মজীবী মানুষ, কৃষক এবং ব্যবসায়ীরা যাতায়াত করেন। ব্রিজ ডুবে যাওয়ায় তাঁদের চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়েছে। প্রয়োজনের তাগিদে অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় নদী পারাপার করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা এলেই একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হয়। নদীর জল বাড়লেই ফেয়ার ওয়েদার ব্রিজ জলের নিচে তলিয়ে যায়, ফলে দিনের পর দিন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা। বহুবার স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত সেই দাবি পূরণ হয়নি। তাই প্রতি বর্ষাতেই চরম ভোগান্তিই যেন নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে এলাকার মানুষের।

এদিকে আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে আগামী কয়েকদিনেও নদীর জলস্তর আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীর ধারে অযথা ভিড় না করার এবং ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে বলেও প্রশাসনিক সূত্রে খবর।

বর্ষার দাপটে সুবর্ণরেখার এই রুদ্ররূপ ফের একবার সামনে এনে দিল দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যাকে। একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত স্থায়ী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতেও বর্ষা এলেই একই দুর্ভোগের শিকার হতে হবে সাধারণ মানুষকে।