আজকাল ওয়েবডেস্ক: গুপ্তিপাড়ায় শিশুকে খুনের ঘটনায় নয়া মোড়। নিজের নাতিকে খুন করেছে দাদু! তদন্তে উঠে আসছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই ঘটনায় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে শিশুটির দাদু, ঠাকুমা আর জেঠিমাকে। ধৃতদের সোমবার চুঁচুড়া আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গতকাল শনিবার সকাল থেকেই নিখোঁজ হয়ে যায় বছর চারেকের শিশু। তন্নতন্ন করে খুঁজেও পাওয়া যায়নি তাকে। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। পুলিশ এসে ড্রোন উড়িয়ে খোঁজ শুরু করে। সাহায্য নেওয়া হয় স্নিফার ডগের। কিন্তু তাতেও মেলেনি খোঁজ। অবশেষে রবিবার সকালে বাড়ির শৌচালয় থেকে উদ্ধার হয় একরক্তির মৃতদেহ।
প্রাথমিক জি়জ্ঞাসাবাদের শেষে জানা যায়, পাঁচ বছরের ওই খুদে শেষ বলেছিল ঠাকুমার ঘরে খেলতে যাচ্ছি। তারপর থেকেই খোঁজ মিলছিল না তার। শিশুটির বাবা একজন গাড়ি চালক আর মা একজন গৃহবধু। নিম্ন মধ্যবর্তী পরিবারে ঠিক কী শত্রুতার জেরে শিশুটি নিখোঁজ হয়ে গেল তাই নিয়ে চিন্তায় ছিল এলাকাবাসী। রবিবার দাদুই প্রথম দেখেন নাতির দেহ। তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে মৃত বলে ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চুঁচুড়ার ইমামবাড়া হাসপাতালে পাঠানো হয়। রিপোর্ট জানায় ওই শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে।
গতকালই শিশুর ঠাকুরদা শম্ভু সাহা, ঠাকুমা চায়না সাহা, জেঠিমা টুম্পা মজুমদার সাহাকে গ্রেফতার করে বলাগড় থানার পুলিশ। জানা যায়, সবাই যখন শিশুকে খুঁজছে তখন ঘন্টা দুয়েকের জন্য ঠাকুরদা বেরিয়ে যায়। ফিরে এসে বলে তান্ত্রিকের কাছে গিয়েছিল নাতি কোথায় আছে জানার জন্য। শিশুটির পরিবার গতকালই জানিয়েছিল দাদু শম্ভু বদমেজাজি। ছোটো বৌমাকে পছন্দ করতেন না, নাতিকেও দেখতে পারত না। এমনকী নিজের স্ত্রীকেও মারধর করতেন। জেরায় জানা যায়, দাদুর কাছে গিয়েছিল খাবার চাইতে তখনই এই কাণ্ড ঘটায় শম্ভু সাহা। পরে মিথ্যে গল্প দেয় প্রমাণ লোপাটের। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসতেই পরিষ্কার হয় বিষয়টি।
















