আজকাল ওয়েবডেস্ক: বর্ষাকাল। কিন্তু সুপার এল নিনোর কারণে প্রকৃতির গতিবিধি সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বর্ষাকাল ও সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় রাজ্যের সমস্ত স্কুলকে প্রয়োজনে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের নির্দেশ দিল স্কুল শিক্ষা দপ্তর।
৭ জুলাই জারি হওয়া একটি নির্দেশিকায় স্কুল শিক্ষা কমিশনার সমস্ত জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক ও মাধ্যমিক)-দের এই নির্দেশ পাঠিয়েছেন। নির্দেশিকা অনুযায়ী, জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রয়োজন হলে স্কুল ভবন ও পরিকাঠামো আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার ব্যবস্থা করতে হবে। এই নির্দেশ নবান্নে গত ২৩ মে অনুষ্ঠিত বর্ষা প্রস্তুতি পর্যালোচনা বৈঠকের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে জারি হয়েছে।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, তাপপ্রবাহের সময় সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খোলা জায়গায় শরীরচর্চা ও খেলাধুলা এড়িয়ে চলতে হবে। পাশাপাশি তাপপ্রবাহ সংক্রান্ত পূর্বাভাস এবং করণীয়-বর্জনীয় (Do’s and Don’ts) স্কুলগুলিতে ব্যাপকভাবে প্রচার করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে স্কুল শিক্ষা দপ্তর।
বর্ষার পাশাপাশি তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলের জন্য বিস্তারিত করণীয় ও বর্জনীয় (Do’s & Don’ts) নির্দেশিকা জারি করল স্কুল শিক্ষা দপ্তর। স্কুল শিক্ষা কমিশনারের নির্দেশে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকদের মাধ্যমে এই নির্দেশিকা সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, তাপপ্রবাহের সময় পর্যাপ্ত জল পান করতে হবে, হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতি পোশাক পরতে হবে এবং বাইরে বের হলে টুপি, ছাতা বা সানগ্লাস ব্যবহার করতে হবে। ভ্রমণের সময় সঙ্গে পানীয় জল রাখতে হবে। অসুস্থ বোধ করলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ওআরএস, লেবুর শরবত, লস্যি বা ঘোলের মতো পানীয় গ্রহণেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্কুলগুলিকে খোলা জায়গায় শরীরচর্চা বা খেলাধুলা এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে রোদে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চ তাপমাত্রায় অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম, চা-কফি, মদ্যপান ও কোমল পানীয় গ্রহণ এবং বাসি বা অতিরিক্ত প্রোটিনযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলার নির্দেশ রয়েছে। এছাড়া কোনও অবস্থাতেই শিশু বা পোষ্য প্রাণীকে পার্ক করা গাড়ির ভিতরে রেখে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্কুল শিক্ষা দপ্তরের বক্তব্য, তাপপ্রবাহজনিত অসুস্থতা ও হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে এই নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে এবং সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তা প্রচার করতে হবে।















