আজকাল ওয়েবডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর আগামী ১০ জুলাই প্রথমবার মুর্শিদাবাদ জেলায় আসছেন শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার মুর্শিদাবাদ জেলায় মুখ্যমন্ত্রী তিনটি কর্মসূচি রয়েছে। বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মলয় মহাজন বুধবার বলেন, 'আগামী শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীর মুর্শিদাবাদ জেলা সফর শুরু হবে বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা 'কোর কমিটির' সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে। বহরমপুরে একটি বেসরকারি হোটেলে দুপুর দুটো থেকে সাড়ে তিনটে পর্যন্ত ওই বৈঠক রয়েছে। সাংগঠনিক জেলা সভাপতি হিসেবে আমি ছাড়াও , সাংগঠনিক জেলা ইনচার্জ ,সাধারণ সম্পাদক,বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার অন্তর্গত সমস্ত বিজেপি বিধায়ক, এক প্রাক্তন সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সহ উপস্থিত থাকবেন বিজেপি নেতা নির্মল সাহা এবং যাদবেন্দ্র পান্ডে।'

বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে ,প্রায় দেড় ঘন্টা 'কোর কমিটির' সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের শেষে মুখ্যমন্ত্রী সোজা চলে যাবেন বহরমপুর রবীন্দ্রসদনে। বেলা সাড়ে চারটে পর্যন্ত সেখানে তিনি প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করবেন। ওই বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রীর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে।

বিজেপি সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, হেলিকপ্টারে কলকাতা থেকে বহরমপুরে আসবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসনিক বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী হেলিকপ্টার করে রেজিনগরের তোকিপুর যাবেন। সেখানে তিনি তোকিপুর হাই মাদ্রাসা ময়দানে বিজেপির 'কার্যকর্তা সম্মেলনে' বক্তব্য রাখবেন। যদিও বিজেপি নেতারা মনে করছেন 'কার্যকর্তা সম্মেলন' জনসম্মেলনের রূপ নিতে পারে।

মলয় মহাজন বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী হেলিকপ্টারে মুর্শিদাবাদ জেলায় আসবেন। এরপর তাঁর তিনটি কর্মসূচি জেলায় রয়েছে। কর্মসূচি শেষ হওয়ার সময়ের ওপর ঠিক হবে তিনি মুর্শিদাবাদেই থেকে যাবেন নাকি গাড়ি করে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন।'

বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি জানান, 'বহরমপুরের বেসরকারি হোটেলে যে 'কোর কমিটি'র বৈঠক হবে সেখানে মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে নির্বাচিত রাজ্যের দুই মন্ত্রী (গৌরীশঙ্কর ঘোষ এবং গার্গী দাস ঘোষ ) উপস্থিত থাকবেন না বলেই এখনও পর্যন্ত আমরা জানি। তাঁরা প্রশাসনিক বৈঠকে থাকতে পারেন।'

তিনি বলেন, 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান (হুমায়ুন কবীর ) রেজিনগরের মাটিতে দাঁড়িয়ে যে 'ভাষণ' দিয়েছিলেন তার সমুচিত জবাব তিনি রাজ্য বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পেয়েছিলেন। আমরা আশাবাদী রেজিনগরের মাটিতে দাঁড়িয়ে আমাদের রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য যা করার দরকার মুখ্যমন্ত্রী তাই করবেন।'

মলয় মহাজন বলেন, '২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগরের মাটিতে তৃণমূলকে হারানোর জন্য বিজেপি এবং 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি' উভয় রাজনৈতিক দল পৃথকভাবে লড়াই করেছিল। বিধানসভা নির্বাচনের আগে 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র চেয়ারম্যান দাবি করেছিলেন ভোটে যে দলই জিতুক সরকার গঠনের চাবিকাঠি তাঁর হাতেই থাকবে। কিন্তু ভোটের ফলাফলে দেখা গিয়েছে 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করার কোনও ক্ষমতাই নেই।'

মলয় মহাজন আরও বলেন, 'হুমায়ুন কবীরের ছেড়ে যাওয়া রেজিনগর আসনে উপনির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন তাতে সরকার বদলাবে না। বিজেপি এই আসনে পরাজিত হলেও রাজ্য বিজেপির আসন কমবে না, কিন্তু 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি' রেজিনগর আসনে হারালে তাদের কিন্তু রাজ্যে আসন সংখ্যা কমে যাবে।'

বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বলেন, 'আমরা আশাবাদী মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণে রেজিনগর শিল্পতালুক, নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং রামনগর ও নারকেলবাড়ি এলাকায় ঘাট সংক্রান্ত বড় কোনও ঘোষণা থাকতে পারে।'

তিনি বলেন,"রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের বেশিরভাগ ভোটারই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। এই কেন্দ্রে যদি বিজেপি প্রার্থী জয়লাভ করতে পারে তাহলে গোটা দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে বড় বার্তা যাবে। রেজিনগর আসনে বিজেপি প্রার্থী জয়ী হলে হিন্দু এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে কিছু জায়গায় যে অবিশ্বাসের বাতাবরণ তাও দূর হবে বলে আমরা আশাবাদী।'