আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিদেশে যুদ্ধ পরিস্থিতি। এর জেরে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সাগর ব্লকের মহেন্দ্রগঞ্জ এলাকার বহু পরিবার। কাজের সূত্রে দুবাইতে গিয়ে বর্তমানে সেখানে আটকে পড়েছেন এই এলাকার একাধিক যুবক। তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যরা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন।

মহেন্দ্রগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা দীপক চন্দ্র আর্য বর্তমানে দুবাইতে কর্মসূত্রে রয়েছেন। যুদ্ধকালীন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মাঝেই তিনি ভিডিও কলের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তবে সেখানকার অস্থির পরিস্থিতির কথা শুনে আতঙ্কে রয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। শুধু দীপকের পরিবারই নয়, একই উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে সাগরের মন্দিরতলা ও চক ফুলডুবি এলাকাতেও।

জানা গিয়েছে, এই সমস্ত এলাকা মিলিয়ে অন্তত ১৫ জন পরিযায়ী শ্রমিক বর্তমানে দুবাই ও সংঘর্ষের কাছাকাছি অন্যান্য দেশে কাজের জন্য গিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সেখানেই আটকে পড়েছেন।

প্রিয়জনদের নিরাপত্তা ও দ্রুত দেশে ফেরানোর দাবিতে পরিবারগুলি স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ইতিমধ্যেই সক্রিয় হয়েছে সাগর ব্লক প্রশাসন। ব্লক অফিসে একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে, যেখানে আটকে পড়া শ্রমিকদের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদেশে থাকা শ্রমিকদের বর্তমান অবস্থান এবং পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।

দীপক চন্দ্র আর্যের স্ত্রী রিনিসী আর্য জানান, তাঁর স্বামী কাজের জন্য দুবাই গিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় পরিবারে চরম উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ভিডিও কলের মাধ্যমে মাঝে মাঝে যোগাযোগ হলেও প্রতিনিয়তই আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা চাই, দুবাইয়ে আটকে পড়া সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিক নিরাপদে বাড়ি ফিরে আসুক।”

এই বিষয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সদস্য তথা গঙ্গাসাগর- বকখালি ডেভেলপমেন্ট অথরিটির ভাইস চেয়ারম্যান সন্দীপ পাত্র জানান, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এবং সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জির নির্দেশে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বিদেশে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদের দিকে নজর রাখা হচ্ছে। গঙ্গাসাগর সহ মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের যেসব শ্রমিক দুবাই এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি সংলগ্ন দেশে কাজ করতে গিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, গঙ্গাসাগর ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। প্রয়োজন হলে কেন্দ্রের বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গেও যোগাযোগ করে আটকে পড়া শ্রমিকদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট ১৫ জন শ্রমিকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং পরিস্থিতির ওপর প্রশাসন নজর রাখছে।

এদিকে প্রিয়জনদের নিরাপদে ঘরে ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছেন মহেন্দ্রগঞ্জ সহ সাগরের বিভিন্ন এলাকার পরিবারগুলি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনার আশায় প্রহর গুনছেন সকলে।