আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দল নাকি ক্ষমতা প্রদর্শনের লড়াই? এই প্রশ্নেই এখন তোলপাড় পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ব্লকের রাজনৈতিক মহল। দলেরই মণ্ডল সভাপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তার প্রেক্ষিতে পাল্টা কর্মসূচি - এই দুইয়ের চাপে কার্যত খণ্ডবিখণ্ড জামালপুর বিজেপির অন্দরের সমীকরণ।
বিগত কয়েকদিন ধরেই জামালপুর ব্লকের বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধছিল। যার চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটে রবিবার। জামালপুর ১নং মণ্ডল সভাপতি প্রধানচন্দ্র পালের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সরব হয়ে ওঠেন দলেরই বিক্ষুব্ধ কর্মীরা। হাতে দলীয় পতাকা নিয়েই থানার সামনে জড়ো হন তাঁরা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তি পর্যন্ত হয়। রীতিমতো থানা ঘেরাও করে মণ্ডল সভাপতির গ্রেফতারের দাবিতে সরব হন বিক্ষুব্ধরা।
সেই ঘটনার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই চিত্র সম্পূর্ণ উল্টে গেল। রবিবার শেষ বিকেলে নিজের গোষ্ঠীর শক্তি প্রদর্শনে পথে নামলেন খোদ মণ্ডল সভাপতি প্রধান চন্দ্র পাল। কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে জামালপুর এলাকায় এক বিশাল পাল্টা মিছিল করেন তিনি। এই মিছিলে কার্যত নিজের প্রভাব জাহির করার পাশাপাশি নিজেকে সম্পূর্ণ ‘ক্লিনচিট’ দিলেন প্রধানচন্দ্র পাল।
চন্দ্র পাল দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। উল্টে, যাঁরা দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে গতকাল থানায় বিক্ষোভ দেখিয়েছিল, সেই সব ‘বিদ্রোহী’ কার্যকর্তাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের কাছে দাবি জানান তিনি।
দলেরই একাংশ যখন অন্য অংশের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানাচ্ছে, তখন বিজেপির জেলা নেতৃত্ব এই পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা বিজেপির অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠী কোন্দলকে প্রকট হয়েছে। সামনেই পঞ্চায়েত বা অন্যান্য নির্বাচনগুলোতে এই ভাঙন, বিরোধীদের সুবিধা করে দেবে কি না, তা নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা। আপাতত জামালপুরের সাধারণ মানুষের নজরে এখন বিজেপির এই ‘লড়াই’। একে অপরের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি আর পাল্টা মিছিলে কার্যত উত্তপ্ত জামালপুরের রাজনৈতিক পরিবেশ।















