আজকাল ওয়েবহডেস্ক: তৃণমূলের লোকসভার বিদ্রোহীরা শেষপর্যন্ত আশ্রয় নিলেন ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-তে। রবিবার এই দলে মিশে যাওয়াক কথা ঘোষণা করেছেন কাকলি ঘোষদস্তিদার, সুদীপ ব্যানার্জিরা। আপাতত স্থির হয়েছে, এনসিপিআই এনডিএ-কে সমর্থন জানাবে। এর প্রেক্ষাপট কী আগে থেকেই ঠিক ছিল? সেই বিষয়ে মুখ খুলেছেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
কী বলেছেন দিলীপ?
তৃণমূলের ২০ 'বিদ্রোহী' সাংসদের প্রতি বেশ নরম সুর রাজ্যের মন্ত্রীর। সোমবার তিনি বলেন, "বাংলায় যারা দলটা করছিল তারা বাধ্য হয়ে করছিল। দলে বাকিদের সঙ্গে ক্রীতদাসের মতো ব্যবহার করা হতো। থ্রেট কালচার। ওই কালচার সবথেকে বেশি ছিল। যারা এই কালচার কাজে লাগিয়ে দুর্নীতি করেছে তারা কেউ পার পাবে না। সবার অধিকার আছে জনতার রায়ে জিতে স্বাধীন ভাবে রাজনীতি করার। তারা সেটাই করছেন।"
অর্থাৎ, তৃণমূলে থেকে বেরিয়ে এসে কাকলী, সুদীর, সায়নী, জুনদের পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন পোড়খাওয়া দিলীপ ঘোষ।
সোমবার প্রাতঃভ্রমণ করতে এসে রাজ্য রাজনীতির একাধিক ইস্যুতে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন দিলীপ বাবু। বিধায়দের স্বাক্ষর জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলায় ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অসহযোগিতা করছে বলে দাবি ইডি আধিকারিকদের। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "এতদিন কোর্টের কোনও নির্দেশ উনি মানেননি। এখন বাঁচার জন্য কোর্টে যাচ্ছেন। ওনাকে হয়তো সাময়িক রক্ষাকবচ দিয়েছে। তদন্তে অসহযোগিতা করলে কোর্ট আপনাকে রেয়াত করবে না। আগেও বহুবার কেউ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। অভিষেক তো নিজে সিআইডি নোটিশ গ্রহণ করেননি। অন্য লোক গ্রহণ করেছে। পুলিশকে তার বাড়ির তালা ভেঙে ঢুকতে হচ্ছে। এটা সহযোগিতা নয়। এটা আদালত দেখে নেবে।"
মেসি কাণ্ডে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের আজ আদালতে হাজিরা দেওয়ার কথা রয়েছে। এই ইস্যুতে রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী বলেছেন, "ওদের এক একটা নেতাকে নিয়ে আলোচনা করলে গোটা দিন কেটে যাবে। এখন সবাই কমপ্লেন করতে শুরু করেছে। ডিমের দাম বেড়ে গেছে। মানুষ ডিমের মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছে। মানুষ যদি ইট পাটকেল হাতে তুলে নেয় তাহলে ইমারত নির্মাণ সামগ্রীর দাম বেড়ে যাবে।"
বিড়ম্বনা বাড়ল 'ফলতার পুষ্পা' জাহাঙ্গির খানের। কনভয় হামলার ফাইল আবার খুলছে। দিলীপের কথায়, "এরকম বহু কেস রিওপেন হবে। আমি নিজে সেদিন নাড্ডাজির গাড়িতে ছিলাম। গাড়ি বুলেট প্রুফ না হলে আমাদের প্রাণ চলে যেত। ২০০০ লোক ঘিরে ধরেছিল। সাধারণ মানুষের আইনের ওপর থেকে ভরসা উঠে গেছিল। সেই ভরসা ফিরিয়ে আনা হোক।"
তৃণণূলের 'বিদ্রোহী' সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পুত্র প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির দেওয়া বিয়ের উপহার ফিরিয়ে দিচ্ছেন। এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, "প্রাইজ রিভার্স গ্যাং। নেওয়ার সময় নেব। পরে ফিরিয়ে দেব। সেইসময় নিয়েছিলেন কেন? গিফট ফেরানোর অধিকার আপনার আছে। কিন্তু এই ধরনের ড্রামা কেন?"
সূত্রের খবর, মমতা ব্যানার্জির সামনেই নাকি কুণাল ঘোষ ও অভিষেক ব্যামনার্জির মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা হয়েছে। চাঁচাছোলা দিলীপের উত্তর, "দু'জনেই বড় নেতা। আগে পার্থ কুণাল ঝগড়া দেখেছি। কল্যাণের সঙ্গে বাকিদের ঝগড়া দেখেছি। আমার মনে হয় এদের বিসর্জন হওয়ার দরকার আছে।"
তৃণমূল কী যদুবংশের মতো ধ্বংস হয়ে যাবে? দিলীপের সাফ কথা, "এটাকে মুষল পর্ব বলে। আমরা মহাভারত দেখিনি। এখন মুষল পর্ব দেখতে পাচ্ছি। এই কুরু বংশ ধ্বংসের দিকে এগিয়ে চলেছে।"















