আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশের স্কুল শিক্ষা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভান্ডার হিসাবে কাজ করে ইউনিফায়েড ডিস্ট্রিক্ট ইনফরমেশন সিস্টেম ফর এডুকেশন প্লাস বা ইউডিআইএসই প্লাস। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভান্ডার দেখেই বোঝা যায় রাজ্যের সামগ্রিক শিক্ষার মান। এদিকে বহু বেসরকারি স্কুলই এ সংক্রান্ত তথ্য কেন্দ্রীয় পোর্টালে জমা না দেওয়ায় সঠিক তথ্য জমা পড়ছে না সরকারের কাছে। এ বার সেই নিয়েই পশ্চিমবঙ্গের স্কুল শিক্ষা দপ্তরের তরফে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, নির্দেশ না মানলে কড়া পদক্ষেপ করবে রাজ্য সরকার।
রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দপ্তরের তরফে সমস্ত জেলাশাসক, কলকাতা পুরসভার কমিশনার এবং জিটিএ-এর প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে এই কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, রাজ্যের সামগ্রিক শিক্ষার মান, যেমন— স্কুলে গ্রস এনরোলমেন্ট রেশিও (জিইআর), নেট এনরোলমেন্ট রেশিও (এনইআর), ড্রপআউট রেট (স্কুলছুট পড়ুয়ার সংখ্যা) এবং রিটেনশন রেট মূল্যায়ন করা হয় ইউডিআইএসই প্লাস-এর তথ্য থেকে। কিন্তু রাজ্যের বহু বেসরকারি স্কুল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিক বা সম্পূর্ণ তথ্য জমা না দেওয়ায় বহু পড়ুয়ার তথ্যই এই ডেটাবেসের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে না। এমনকি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত স্কুলও এই একই ভুল করছে। ফলে জাতীয় স্তরে রাজ্যের শিক্ষার মানের সামগ্রিক চিত্রটি সঠিকভাবে ফুটে উঠছে না, যা দেশের শিক্ষানীতি নির্ধারণেও সমস্যা সৃষ্টি করছে।
নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, 'শিশুদের বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার অধিকার, ২০০৯' (আরটিই আইন)-এর ১২ (৩) ধারা অনুযায়ী, ম্যানেজমেন্ট নির্বিশেষে সমস্ত স্বীকৃত স্কুল কর্তৃপক্ষেকে সরকারকে এই তথ্য জমা দিতে হবে। পাশাপাশি, জেলা প্রশাসনকে প্রতিটি বেসরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত স্কুলের ওপর কড়া নজরদারি চালাতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে যাতে স্কুলগুলি দ্রুত এই তথ্য পূরণ করার জন্য। যে সমস্ত স্কুল বহুবার বলার পরেও এই তথ্য জমা দেবে না বা ভুল তথ্য দেবে, তাদের প্রথমে 'শো-কজ' নোটিস দেওয়া হবে। সেই 'শো-কজ' নোটিসের পরও নিয়ম না মানলে স্কুলগুলির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে। করা হবে শাস্তিমূলক পদক্ষেপও।
















