কয়েক সপ্তাহ আগেও এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব এবং বৃষ্টির ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগে ছিল দেশ। তবে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন হয়েছে। জুলাইয়ের শুরু থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বর্ষার দাপট উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
2
14
একাধিক রাজ্যে টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির জেরে মৌসুমি বায়ু নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এর ফলে মৌসুমি বৃষ্টির ঘাটতিও অনেকটাই কমে এসেছে বলে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে।
3
14
ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর তথ্য অনুযায়ী, উত্তর, পূর্ব, পশ্চিম এবং মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে।
4
14
দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাত, মহারাষ্ট্র, বিহার, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা-সহ একাধিক রাজ্যে ভারী বৃষ্টির জেরে নদী-নালা ফুলে উঠেছে। কোথাও কোথাও জলমগ্ন হয়েছে নিম্নাঞ্চল এবং ব্যাহত হয়েছে স্বাভাবিক জনজীবন।
5
14
বর্ষার এই সক্রিয় অবস্থার ফলে কৃষিক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। যেসব অঞ্চলে ধান, ডাল, তুলো, সয়াবিন এবং অন্যান্য খরিফ ফসলের বপন বৃষ্টির অভাবে পিছিয়ে গিয়েছিল, সেখানে এখন দ্রুত চাষের কাজ এগোচ্ছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টির কারণে মাটির আর্দ্রতা বেড়েছে, যা কৃষকদের কাছে স্বস্তির খবর।
6
14
আবহাওয়াবিদদের মতে, চলতি মৌসুমের শুরুতে এল নিনোর প্রভাব নিয়ে আশঙ্কা থাকলেও বর্তমানে বর্ষার সক্রিয়তা সেই প্রভাব অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছে।
7
14
মৌসুমি বায়ুর অক্ষরেখা অনুকূল অবস্থানে থাকায় এবং একের পর এক নিম্নচাপ ও ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হওয়ায় দেশের অধিকাংশ এলাকায় ভাল বৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে সার্বিক বৃষ্টির ঘাটতি দ্রুত কমছে।
8
14
তবে ভারী বৃষ্টির সঙ্গে বাড়ছে বিপদের আশঙ্কাও। পাহাড়ি রাজ্যগুলিতে ভূমিধস, সমতল এলাকায় জলাবদ্ধতা এবং নদীর জলস্তর বৃদ্ধি নিয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।
9
14
বেশ কয়েকটি রাজ্যে বন্যার পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। জাতীয় ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চালানো হচ্ছে।
10
14
পশ্চিমবঙ্গেও নিম্নচাপের প্রভাবে একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকায় প্রবল বর্ষণের পাশাপাশি দমকা হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে এবং উপকূলবর্তী এলাকায় সতর্কতা জারি রয়েছে।
11
14
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন অংশে বর্ষার দাপট বজায় থাকবে। মধ্য, পূর্ব এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
12
14
ফলে কৃষিক্ষেত্রে যেমন ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, তেমনই জলাবদ্ধতা, বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
13
14
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টির ঘাটতি কমে আসা দেশের কৃষি অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হলেও অতিবৃষ্টির ফলে যাতে ফসলের ক্ষতি না হয়, সে বিষয়েও নজর রাখা জরুরি। তাই সাধারণ মানুষকে আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কবার্তা মেনে চলার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয়ভাবে জলমগ্ন বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যাতায়াত এড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
14
14
বর্তমানে বর্ষার এই সক্রিয় রূপ দেশের বহু অঞ্চলে স্বস্তি এনে দিলেও পরিস্থিতির উপর নজর রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।