আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটে হেরেই ছন্নছাড়া তৃণমূল। একাধিক প্রথম সারির নেতা-নেত্রী, এমনকী মমতা ক্যাবিনেটের মন্ত্রীরাও হাত ছেড়েছেন 'দিদি'র। লোকসভার সাংসদরা পৃথক গোষ্ঠী হয়েছেন। অন্যদিকে রাজ্যসভার তিন সাংসদ ইস্তফা দিয়ে, বিজেপির পতাকা হাতে তুলেই পরের বেলাতেই গেরুয়া শিবিরের রাজ্যসভার প্রার্থী হয়েছেন। ঠিক তার পরেই একের পর এক পোস্ট করে কটাক্ষ কুণালের।

কুণাল ঘোষের দুটি ফেসবুক পোস্টের কথা উল্লেখ্য। একটি পোস্টে কুণাল লিখেছেন, 'রাজ্যসভার ভোটে জেতার জন্য নব্য-বিজেপি প্রার্থীদের দরকার বিজেপি বিধায়কদের ভোট। সেইসঙ্গে আছে বিজেপি স্পনসর্ড বালিশচাটা শিবির। তাই ঝুঁকি কম। বিনাভোটে জয়ের কৌশলও পাকা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতা হারাতেই সেজন্য এদের গণ-বিবেক জাগরণ, পদত্যাগ এবং দল বদলে ফের নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ। কিন্তু লোকসভার দলবদলুরা সেই ঝুঁকি নিতে ভয় পাচ্ছেন। কারণটাও স্পষ্ট! জনতার দরবারে ভোট চাইতে গেলে এরপর এদের কী হাল হবে নিজেরাই বুঝছেন। তাই ছদ্মবিপ্লব দেখিয়েও পদত্যাগে ভয়। আবার ভোটে দাঁড়ালে তৃণমূলের ভোটাররা সুদেআসলে বুঝিয়ে দেবেন গদ্দারির ফল, আর বিজেপির ভোটাররাও ধান্দাবাজদের দেখিয়ে দেবেন কত ধানে কত চাল!!! তাই সংসদের দুই কক্ষ আর বিধানসভা; বিজেপির তিন ফর্মুলা তিন শিবিরের জন্য। এরমধ্যে প্রকৃত বিজেপি কর্মীদের হাল ভাবুন! কালকের সেইসব প্রতিপক্ষকে আজ 'বন্ধু' বলে গলা জড়াতে হচ্ছে, যারা দল ক্ষমতা থেকে চলে যেতেই নেত্রীকে ছেড়ে যেতে দুবার ভাবেনি। এরা আপনাদের পাশেও কদ্দিন থাকবেন ভাবুন। এরা সুসময়ে সুখের পায়রা, শুধু ক্ষমতার ক্ষীর চায়, দুঃসময়ে চিনতেও পারবে না!'

সেখানে একপ্রকার পয়েন্ট ধরে কুণাল লিখেছেন যাঁরা ১৯৭৭-এর পর থেকেও বাংলায় কংগ্রেস করছেন তাঁদের কথা, 'যাঁরা ২০১১র পর থেকে আজও সিপিএম, বামফ্রন্ট করছেন, MLA, MP সংখ্যাবিতর্কের বাইরেও' তাঁদের কথা, লিখেছেন, 'যাঁরা সেই সুকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, বিষ্ণুকান্ত শাস্ত্রী, তপন শিকদারদের ঘরানায় বিজেপি করে এসেছেন, ২০২১-এর পরেও করেছেন' তাঁদের কথা। কুণাল লিখেছেন- 'রাজনৈতিক মতপার্থক্য, যুক্তির লড়াই থাকবেই। তবু,
১) যাঁরা ১৯৭৭-এর পর থেকেও বাংলায় কংগ্রেস করছেন, সেই নেতা, কর্মীদের সম্মান আছে, থাকবে।
২) যাঁরা ২০১১র পর থেকে আজও সিপিএম, বামফ্রন্ট করছেন, MLA, MP সংখ্যাবিতর্কের বাইরেও তাঁদের সম্মান আছে, থাকবে।
৩) যাঁরা সেই সুকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, বিষ্ণুকান্ত শাস্ত্রী, তপন শিকদারদের ঘরানায় বিজেপি করে এসেছেন, ২০২১-এর পরেও করেছেন; তাঁরা রাজনৈতিক কর্মীর সম্মান যথাযথভাবে পাচ্ছেন।
৪) এসইউসি বা সিপিআইএম লিবারেশনের মত দলগুলির কর্মীরা ক্ষমতার রাজনীতির বাইরে থেকেও নীতির উপর দাঁড়িয়ে যেভাবে লড়েন, তাঁদের রাজনৈতিক সত্তা সম্মান পায়।
৫) এবছর ৪ মের পর, বিশেষত এখনও এত চক্রান্তের মুখে দাঁড়িয়ে যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস করছেন, তাঁরা আপাতদৃষ্টিতে কোণঠাসা হতে পারেন, কিন্তু মেরুদন্ড সোজা রাখার সম্মান পাচ্ছেন, পাবেন।
কিন্তু, ক্ষমতার সঙ্গে রংবদলকারী গিরগিটিরা, তারা পদ, চেয়ার যতই পাক, এই বিশ্বাসঘাতকদের রাজনৈতিক সম্মান বলে আর কিছু অবশিষ্ট থাকে না। এরা যে পদটাকে প্রাপ্তি বলে ভাবে, মানুষের কাছে সেটা ঘৃণ্য লোভী রাজনীতির বিষফল।'















